উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ (TMC Camac Avenue Workplace Vandalized)। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী জোর করে অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি (BJP) আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।
দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিষেকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অফিসে হামলা চালিয়ে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টিভি এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী লুট করা হয়েছে। কর্মীদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র।
এই ঘটনার জেরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বারবার ফোন এবং ইমেল করা সত্ত্বেও প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। ভোরবেলা অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীরা রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাণ্ডব চালালে রাজ্যে আইনের শাসন আদৌ বজায় থাকে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সমগ্র ঘটনার নেপথ্য ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে, ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ জনকে আটক করেছে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। যদিও এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের বিধায়ক সজল ঘোষ সাফ বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে, তারা কেউ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নয়।’ এই হামলাকে ‘সাজানো’ ঘটনা বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ক্যামাক স্ট্রিটের এই কার্যালয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তর্জা চলছে। গত সপ্তাহে কার্যালয়ের একটি বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর দমকল ও পুলিশের একটি দল ভবনটি পরিদর্শন করে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এবং বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করে। বর্তমান ভাঙচুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

