উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Meeting Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র দু’দিনের মাথায় বড়সড় চমক দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। মঙ্গলবার সকালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল (Shibshankar Paul) সহ একাধিক বিশিষ্টজন। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাংসদ পার্থ ভৌমিকের উপস্থিতিতে এদিন দলে যোগ দেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ তনুশ্রী হাঁসদা এবং ইসলামিক স্কলার আব্দুল মাতিন। এদিন বিকেলেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে, তার আগে এই বিশিষ্টজনদের যোগদান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির প্রার্থী তালিকা এবং বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানায় তৃণমূল। সোমবার বিজেপির প্রথম দফার তালিকায় দেখা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লড়াই নিয়ে কটাক্ষ করে পার্থ ভৌমিক বলেন, “লোডশেডিংয়ে জেতা একটা লোক সবসময় বলত আমি মমতাকে হারিয়েছি। সেই দম্ভ চূর্ণ করতেই বিজেপি তাঁকে ভবানীপুরে প্রার্থী করেছে, যাতে লক্ষাধিক ভোটে হারার স্বাদ তিনি পেতে পারেন।”
একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে তাঁর ‘ভীতি’ হিসেবেই দেখছে তৃণমূল। পার্থ ভৌমিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “শুভেন্দু ভয় পেয়েছে যে সে হেরে যাবে, তাই দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছে। যদি সাহস থাকত, তবে শুধু ভবানীপুরে লড়াই করে দেখাত।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনেই আলাদা প্রার্থী দেবে তৃণমূল এবং দুটি আসনেই জয় নিশ্চিত।
এদিন যোগদান কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্রিমা-পার্থরা। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভোটের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।
