উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট (WB Election 2026) মিটতেই উত্তর ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল। এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে (Rabindranath Bhattacharya) সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শুক্রবার দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik) এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর ব্যারাকপুরের মণিরামপুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিবাদী যুবকদের ওপর হামলার সময় নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে রোষের মুখে পড়েন তুলসী অধিকারী নামে এক অশীতিপর বৃদ্ধ। অভিযোগ ছিল, কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ওই বৃদ্ধকে বেধড়ক মারধর ও লাথি মারেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎকালীন সাংসদ পার্থ ভৌমিক স্বয়ং ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশি গ্রেপ্তারির পর বেশ কিছুদিন জেল হেফাজতে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেতেই তাঁর ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল শাসক দল। কেন এই দ্রুত সিদ্ধান্ত? ফেব্রুয়ারি মাসে কড়া নিন্দা করা পার্থ ভৌমিকের গলায় এখন অন্য সুর। তাঁর যুক্তি, “রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে খুনের কোনও সরাসরি অভিযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই তাঁকে পুনরায় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ভোট মিটতেই এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বাম-বিজেপি শিবিরের দাবি, নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং ঘরোয়া সমীকরণ মেলাতেই খুনের দায়ে অভিযুক্তকে দলে ফেরানো হলো। বিরোধীদের মতে, গত কয়েক মাসের বহিষ্কার ছিল স্রেফ ‘নাটক’ এবং ভোটারদের মন ভোলানোর কৌশল। অভিযুক্তকে সসম্মানে ফেরানোর মাধ্যমে তৃণমূল প্রমাণ করে দিল যে তারা অপরাধীদের পাশেই রয়েছে।
