উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর আটলান্টিকে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে রুশ পতাকাবাহী একটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার আটক করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। বুধবারের এই অভিযানে সরাসরি আকাশপথ ও সমুদ্রপথে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার হয়ে তেল পাচারের অভিযোগে ‘মেরিনেরা’ (The Marinera) নামক এই জাহাজটিকে আটক করা হয়।
রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া ও ব্রিটিশ সহায়তা
জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার সাথে যুক্ত এই জাহাজটির পূর্ব নাম ছিল ‘বেলা ১’। আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী জলপথ দিয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার সময় একে আটক করা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি জানিয়েছেন, আমেরিকার অনুরোধে রয়্যাল এয়ারফোর্সের (RAF) নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সাপোর্ট শিপ ‘আরএফএ টাইডফোর্স’ এই অভিযানে অংশ নেয়। যদিও কোনো ব্রিটিশ কর্মী সরাসরি জাহাজে ওঠেননি, তবে পুরো অভিযানে তাদের কৌশলগত সমর্থন ছিল অনবদ্য।
‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজের রহস্য
তদন্তে জানা গেছে, ‘মেরিনেরা’ জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলা একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ।
• নাম ও পতাকা বদল: গত মাসে ক্যারিবিয়ান সাগরে আটকের চেষ্টা করা হলে জাহাজটি নাটকীয়ভাবে গতিপথ বদলায় এবং নাম পরিবর্তন করে রুশ পতাকাবাহী হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
• বিপজ্জনক লেনদেন: জন হিলি সংসদে জানিয়েছেন, জাহাজটি এ পর্যন্ত প্রায় ৭.৩ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল বহন করেছে। এই বিক্রির টাকা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ।
• বেআইনি কার্যকলাপ: জাহাজটি তার ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান নির্ণয়কারী যন্ত্র) বন্ধ করে ছদ্মবেশে সমুদ্রপথে চলাচল করছিল। এর সাথে লেবানন ভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যোগসূত্রও পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ট্রাম্প-স্টার্মার ফোনালাপ
এই অভিযানের পরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, দুই নেতার মধ্যে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ব্রিটিশ অবস্থানের বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন স্টার্মার।
রাশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া
নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজ আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মস্কো। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রকের দাবি, তারা জাহাজটিকে সাময়িকভাবে রুশ পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কোনো দেশেরই অন্য দেশের নিবন্ধিত জাহাজের ওপর বলপ্রয়োগের অধিকার নেই বলে তারা দাবি করেছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই ‘রাষ্ট্রহীন’ (Stateless) বা ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
