মালদা: কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার আগেই মালদায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই বাংলাদেশি তরুণী ও এক ভারতীয় যুবক। বৃহস্পতিবার মালদা টাউন রেল স্টেশনে এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঙ্গে পাচার চক্রের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF) শিলচর-কোয়েম্বাটুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে তল্লাশি চালায়। রেল পুলিশ জানতে পারে, শিলচর থেকে দুই বাংলাদেশি তরুণীকে নিয়ে এক যুবক ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এরপর মালদা টাউন স্টেশনে জিআরপি ও আরপিএফ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই তরুণী বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নাম:
সাইমা আক্তার (২১): বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কলিয়ারচর থানা এলাকায়।
সুমাইয়া আক্তার (১৯): বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার ফাতুল্লা থানা এলাকায়।
অন্যদিকে, ধৃত যুবকের নাম ইমরান হোসেন লস্কর (২৩)। সে অসমের কাছাড় জেলার বড়কোলা থানা এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, দুই তরুণী বাংলাদেশের সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ব্যাঙ্গালোরে তাদের গ্রামের পরিচিত এক ব্যক্তি কাজ করেন। সেই সূত্র ধরেই তারা কাজের সন্ধানে সেখানে যাচ্ছিল। ইমরান হোসেন লস্কর তাঁদের গাইড হিসেবে নিয়ে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
জিআরপি থানার আইসি প্রশান্ত রাই জানিয়েছেন, “আরপিএফ-এর দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ওই দুই বাংলাদেশি তরুণী ও এক যুবককে আটক করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সাত দিনের পুলিশি হেপাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতদের বৃহস্পতিবার মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়েছে।”
এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি, কীভাবে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করল, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
