উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সাল এখনো আসেনি। তবে তার আগেই ভারতীয় পর্যটন মানচিত্রে এক বড়সড়ো রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতকাল ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণের সমার্থক ছিল দুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। কিন্তু মেকমাইট্রিপ (MakeMyTrip)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই মিথ ভেঙে ২০২৫ সালে ভারতীয়দের সবচেয়ে বেশি বুক করা আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে থাইল্যান্ড (Thailand)। এই পরিবর্তন কেবল একটি সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি ভারতীয় পর্যটকদের মানসিকতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক জোরালো ইঙ্গিত।
কেন থাইল্যান্ডই এখন ‘কিং’?
১. ভিসা-মুক্ত প্রবেশের ‘মাস্টারস্ট্রোক’:
থাইল্যান্ডের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তাদের ভিসা-মুক্ত নীতি (Visa-Free Coverage)। ভারতীয়দের জন্য ৬০ দিনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাইল্যান্ড সরকার কার্যত পর্যটকদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। যেখানে ইউরোপ বা আমেরিকার ভিসার জন্য ভারতীয়দের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় এবং হাজার হাজার টাকা গচ্ছা দিতে হয়, সেখানে থাইল্যান্ডের এই ‘পাসপোর্ট নাও আর বিমানে ওঠো’ নীতি পর্যটকদের চুম্বকের মতো টানছে।
২. খরচের হিসাব:
আগোডা (Agoda)-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেদাবাদ থেকে ব্যাংককের বিমান ভাড়া মাত্র ৬,৫০০ টাকার আশেপাশে শুরু হচ্ছে, যা ভারতের অনেক অভ্যন্তরীণ রুটের চেয়েও সস্তা। মধ্যবিত্ত ভারতীয় পর্যটকদের কাছে এই সস্তা বিমান ভাড়া এবং থাইল্যান্ডের সাশ্রয়ী থাকা-খাওয়ার খরচ একে দুবাইয়ের চেয়ে অনেক বেশি লোভনীয় করে তুলেছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-এর বর্ষবরণ এবং শীতকালীন ছুটির জন্য বুকিংয়ের নিরিখে প্রথম পাঁচটি দেশ হলো:
১. থাইল্যান্ড (শীর্ষে)
২. সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) (দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে)
৩. শ্রীলঙ্কা
৪. ভিয়েতনাম
৫. মালয়েশিয়া
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো ভিয়েতনামের উত্থান। ২০১৯ সালের তুলনায় ভিয়েতনামে ভারতীয় পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় ৩৬৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয়রা এখন কেবল চেনা ছকের বাইরে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজ করছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দাপট
এই তালিকা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতীয় পর্যটকরা এখন পশ্চিমের দেশগুলোর চেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে (Southeast Asia) বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর মূল কারণ তিনটি: কাছাকাছি দূরত্ব (Brief-haul flights), সাশ্রয়ী বাজেট এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়া। মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কাও ভারতীয়দের জন্য ভিসা নিয়ম শিথিল করে এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিশেষে
ভারতীয় পর্যটকরা আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণের খরচ ১২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড এই সুযোগটি সঠিক সময়ে কাজে লাগিয়েছে। তাদের এই সাফল্য অন্য দেশগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—ভারতীয় পাসপোর্টকে সম্মান দিলে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমালে, ভারতীয় পর্যটকরাই তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলবে। দুবাইয়ের বিলাসিতা নয়, বরং থাইল্যান্ডের সহজলভ্যতা এবং আতিথেয়তাই ২০২৫ সালে ভারতীয়দের মন জয় করেছে।
