Thai Apple Kul | রায়গঞ্জ কাঁপাচ্ছে মালদার ‘থাই আপেল কুল’, মরশুমের শুরুতেই লাভের মুখ দেখছেন চাঁচল-আশাপুরের কৃষকরা

Thai Apple Kul | রায়গঞ্জ কাঁপাচ্ছে মালদার ‘থাই আপেল কুল’, মরশুমের শুরুতেই লাভের মুখ দেখছেন চাঁচল-আশাপুরের কৃষকরা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: মালদার থাইল্যান্ড প্রজাতির বড় কুলে (Thai Apple Kul)  এবার রায়গঞ্জ ভরে উঠবে। এই মরশুমে মালদার চাঁচল এবং আশাপুরের চাষিরা থাই আপেল কুল রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারে আনতে শুরু করলেন। বৃহস্পতিবার সকালে মোহনবাটিতে কোর্ট গেটের পাশে দেখা গেল ডালি ডালি সেই কুলের সমারহ। ভোরবেলায় প্রায় আট-দশজন চাষি টোটো করে সেসব নিয়ে হাজির। পাইকাররা ভিড় করছেন, প্রথম দিনই ৫০ টাকা কেজি দরে সেই কুল নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন তাঁরা। চাষিরা জানান, এই মরশুমেও প্রচুর ফলন। ব্যাপক চাহিদা, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। লাভের অঙ্কটাও বেশি হবে।

প্রতি বছরই মাঘ মাসে মালদা ও বিহার থেকে আসা থাইল্যান্ড প্রজাতির আপেল কুলে রায়গঞ্জের বাজার ভরে যায়। এবার মাঘ মাস না পড়তেই কুল আসা শুরু হল। এদিন কুল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশাপুরের আখতার হোসেন। তিনি প্রায় তিন কুইন্টাল কুল এনেছেন। তাঁর কথায়, ‘আজ থেকে কুল আনা শুরু করলাম। পুরো মাঘ মাস চলবে। ভালো ফলন হয়েছে। দাম ভালো মিলছে। তাই বহু চাষি এই বড় কুল চাষ করতে মগ্ন।’ চাঁচলের নয়নপুর গ্রামের আবেদুল ইসলাম এদিন তিন টুকরি কুল নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘তিন বছর ধরে রায়গঞ্জে কুল নিয়ে আসছি। কারণ এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়।’ চাঁচলের সন্তোষপুরের আকালু রহমান এই মরশুমে এদিনই প্রথম কুল নিয়ে এসেছিলেন। তিনি জানান, প্রায় চার বিঘা জমিতে দীর্ঘ পনেরো বছর আগে আপেল কুলের চাষ শুরু করেন। এখন লাভের অঙ্কে আমকেও টেক্কা দিচ্ছে এই কুল। কিন্তু আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ভিনরাজ‍্যের পাশাপাশি বিদেশে আপেল কুলের রপ্তানির কোনও উদ্যোগ সরকারের তরফে নেওয়া হয়নি। বিদেশে এই কুল রপ্তানি হলে কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও লাভবান হতেন।’

আমের মতোই সুস্বাদু এই ফলটির শহরের বাজারগুলিতে দাম প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা। বাগান থেকে পাইকারেরা ৩০-৩৫ টাকা দরে কিনে নিয়ে আসেন। এদিন কুলের পাইকার তপন সাহা বলেন, ‘আজ থেকে এই কুল আসায় দামটা বেশি। আগামীতে কমে যাবে। যদি বিদেশে রপ্তানির ব‍্যবস্থা করা হত তাহলে চাষিরা কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দাম পেতেন। এই আপেল কুল এখন গোটা জেলায় প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে।’ এই কুল চাষের ক্ষেত্রে কোনও রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। গাছের গোড়ায় গোবর জাতীয় সার দিলেই ফলন বাড়ে। এক বিঘা জমিতে ন্যূনতম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে। রায়গঞ্জ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ির কথায়, ‘প্রতি বছর শীতের মরশুমে রায়গঞ্জে আপেল কুলের যথেষ্ট ব্যবসা হয়। মালদা জেলার চাঁচল, আশাপুর এবং বিহারের আবাদপুর থেকে এই কুল নিয়ে আসেন চাষিরা। আজ থেকে চাষিরা কুল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *