Tea Leaf Manufacturing Value Survey | চাষিদের বঞ্চনার শেষ কোথায়? কাঁচা চা পাতার উৎপাদন খরচ জানতে এবার বিশেষ সমীক্ষা

Tea Leaf Manufacturing Value Survey | চাষিদের বঞ্চনার শেষ কোথায়? কাঁচা চা পাতার উৎপাদন খরচ জানতে এবার বিশেষ সমীক্ষা

শিক্ষা
Spread the love


শুভজিৎ দত্ত,নাগরাকাটা: কাঁচা পাতার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া নিয়ে ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগের অন্ত নেই। বিক্রয়মূল্য তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই কাঁচা পাতা রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভের ঘটনাও নতুন নয়। এবার উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের কিলোপ্রতি কাঁচা পাতার উৎপাদন ব্যয় ঠিক কত তা জানতে টি বোর্ড সমীক্ষা (Tea Leaf Manufacturing Value Survey) শুরু করল। বিক্রিত কাঁচা পাতার ন্যূনতম সহায়কমূল্য বা মিনিমাম সাস্টেনেবল প্রাইস (এমএসপি) ঠিক করে দেওয়ার দাবি চাষিদের অনেকদিনের। টি বোর্ডের এই উদ্যোগ এরই প্রথম ধাপ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি অসমের ক্ষুদ্র চা চাষিদেরও কাঁচা পাতার উৎপাদন ব্যয় জানা হচ্ছে। ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়াকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থার বিশেষজ্ঞরা চাষিদের কাছ থেকে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। এরপর উৎপাদন ব্যয়ের রিপোর্ট টি বোর্ড হয়ে কেন্দ্রের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রকের কাছে জমা পড়বে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-এর সভাপতি ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় না জানতে পারলে এমএসপি নির্ধারণ সম্ভব নয়। উৎপাদন ব্যয় জেনে এমএসপি ঠিক করে দেওয়ার দাবি আমাদের অনেকদিনের। যেহেতু প্রথম কাজটি শুরু হয়েছে তাই দ্বিতীয় ধাপের কাজটিও কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রক করবে বলে আমরা আশাবাদী। কস্টিংয়ের বিশেষজ্ঞদের সবরকম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের পর উত্তর দিনাজপুর জেলায় সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এরপর জলপাইগুড়িতে হবে।’

সিস্টা সূত্রে খবর, তাঁদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় লাগাতার বাড়ছে। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে কিলোপ্রতি ওই ব্যয় ছিল ১৮.৫১ টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯.৭৮ টাকায়। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে আরও বেড়ে ২০.৫০ টাকা হয়। এই উৎপাদন ব্যয় বের করতে রাসায়নিক, সার, সেচ, প্রুনিং, নিকাশি ও শ্রমিকদের মজুরির মতো আরও কয়েকটি খাতকে ধরা হয়েছিল। বিজয়গোপালের কথায়, ‘কাঁচা পাতার বিক্রয়মূল্য কিলোপ্রতি ন্যূনতম ৩০ টাকা হওয়া উচিত। স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশে বলা ছিল, উৎপাদন ব্যয়ের ওপর কৃষিজাত পণ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ লাভ থাকা প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গ সহ দেশের নানা প্রান্তের ক্ষুদ্র চা চাষিদের সেটা তো মিলছেই না, উলটে জলের দরে অভাবী বিক্রির ঘটনা প্রতি বছরের চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের বিভিন্ন সংগঠন জানিয়েছে, এবার ভরা মরশুমেও কাঁচা পাতার দাম তলানিতে। এখন ১৩-১৪ টাকা দরে বিকোচ্ছে। তাঁরা এই অবস্থার জন্য তাঁদের মূল ক্রেতা বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলির একাংশকে কাঠগড়ায় তুলছেন। প্রতি মাসে টি বোর্ডের তরফে জেলাভিত্তিক কাঁচা পাতার মিনিমাম বেঞ্চমার্ক প্রাইস ঠিক করে দেওয়া হলেও তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *