উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উত্তরবঙ্গসহ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চা শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (Tea Employee Welfare Scheme)। কেন্দ্রের অনুসরণে পশ্চিমবঙ্গেও এবার চালু হতে চলেছে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (PM-CSPY)। এই প্রকল্পের অধীনে সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
রবিবার সকালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই বড় ঘোষণাটি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের পরিশ্রমী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন আনতেই এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার নবান্নে সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের সচিব, অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় উন্নয়ন দপ্তরের সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর। এই বৈঠকেই কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত ৩১৩.৩০ কোটি টাকা মূলত তিনটি প্রধান জনকল্যাণমুখী খাতে খরচ করা হবে। এরমধ্যে চা বলয়ের শিক্ষাগত পরিকাঠামোর ভোলবদল এবং শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে সিংহভাগ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই খাতে মোট ১৭৭ কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য। যার সরাসরি সুফল পাবে শ্রমিক পরিবারের সন্তানেরা। বাগান সংলগ্ন এলাকাগুলোতে চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়াতে এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চা বাগানের শ্রমিকদের কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৩২১টি আধুনিক বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। এর মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতলে ২৩৩টি বিশ্রামাগার তৈরি হবে। এই বিশ্রামাগারগুলো কেবল নামেই আশ্রয়স্থল হবে না, এতে থাকবে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ পরিষেবা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক বসার জায়গা এবং পরিচ্ছন্ন শৌচাগারসহ সমস্ত আধুনিক নাগরিক সুবিধা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। পুরো কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তারা স্বাস্থ্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করবে।
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন,”আমাদের পরিশ্রমী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমাদের রাজ্য স্তরের কমিটি পিএমসিএসপিওয়াই (PM-CSPY) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চা শ্রমিকদের জীবন বদলে দিতে চলেছি।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার চা বলয়ের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

