রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : চায়ের শীতকালীন পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় প্রুনিং থেকে শুরু করে মাটি তৈরি, সারের ব্যবহারের ওপরেই আগামী মরশুমের ফলন নির্ভর করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাসায়নিকের ভুল প্রয়োগ এবং মাটির স্বাস্থ্য সঠিক না থাকায় চায়ের উৎপাদন কমছে, রোগপোকার আক্রমণও বাড়ছে। শনিবার শিলিগুড়িতে চা বাগান মালিকদের এক কর্মশালায় এসে টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (টিআরএ) ডিরেক্টর ভেঙ্কটেশন সেলভারাজ এই কথাগুলি বলেছেন। তাঁর মতে, ‘শিলিগুড়ি সহ গোটা তরাই অঞ্চলে খামখেয়ালি আবহাওয়া এখানকার চা শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতির মধ্যেও চা উৎপাদন বাড়াতে সঠিকভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে।’ এদিন টিআরএ-র গবেষকরা উন্নত চা চাষের জন্য ড্রোন সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরে জোর দিয়েছেন।
টিআরএ-র তরফে শনিবার মোহরগাঁও-গুলমা চা বাগানে শীতে চায়ের পরিচর্যা বিষয়ে কর্মশালা হয়। শীতে চা গাছের পরিচর্যার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে টিআরএ-র ডিরেক্টর ভেঙ্কটেশন সেলভারাজ বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের পথ সবসময় ভালো। অর্থাৎ মরশুম শুরু হওয়ার পরে চায়ে রোগপোকার আক্রমণ, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছের বৃদ্ধি কম হওয়ার মতো ঘটনাগুলি হামেশাই ঘটে। সেই সময় কোনও নিয়ম না মেনে চা গাছে অবাধে রাসায়নিক এবং কীটনাশক প্রয়োগ হয়। যাতে গাছের ক্ষতি হচ্ছে। অথচ শীতকালে গাছের পরিচর্যার জন্য তিন মাস সময় থাকে। সেই সময় সঠিক নিয়ম মানলে সারাবছরের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।’
এদিনের কর্মশালায় দার্জিলিং সহ গোটা উত্তরবঙ্গ, অসম, বিহারের বেশ কিছু বড় চা বাগান মালিকপক্ষ অংশ নিয়েছিল। প্রত্যেকেই আবহাওয়ার আমূল বদলের জেরে চায়ের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। টিআরএ-র তরাই সেন্টারের অ্যাডভাইজারি অফিসার ডঃ তৃণা মণ্ডল বলেছেন, ‘শীতকালে চায়ের পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় গাছ প্রুনিং করার (গাছের ডালপালা ছাঁটা) পাশাপাশি মাটির ওপরে গুরুত্ব দিতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মাটি পরীক্ষা, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করার কথা ভাবা হয় না। ফলে রোগপোকার আক্রমণ, গাছে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।’ তিনি বলেন, ‘রোগপোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে ছায়াগাছে ‘ইয়োলো স্ট্রিপ টেপ’ ব্যবহার করা হয়। সেটাও সঠিকভাবে না হওয়ায় রোগপোকাও মরছে না, ছায়াগাছেরও ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়গুলি এদিন পাওয়ার পয়েন্ট প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘চায়ে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে চা বাগানের ওপরে নজরদারি, নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে এর ব্যবহার আরও বাড়বে।’ মোহরগাঁও গুলমা চা বাগানের অন্যতম কর্ণধার নয়নতারা পালচৌধুরীর বক্তব্য, ‘তরাইতে চা শিল্প অনেক দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে। এই শীতে আমরা বাগানে কী ধরনের প্রস্তুতি নিলে আগামী মরশুমে চায়ের উৎপাদন ভালো হবে, রোগপোকার আক্রমণ থেকে বাঁচা যাবে সেসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।’
