Taslima Nasrin | কলকাতার মায়া কাটিয়ে বিদায় তসলিমার, জন্মভূমিতে না ফেরার আক্ষেপ নিয়ে যা বললেন লেখিকা…

Taslima Nasrin | কলকাতার মায়া কাটিয়ে বিদায় তসলিমার, জন্মভূমিতে না ফেরার আক্ষেপ নিয়ে যা বললেন লেখিকা…

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলোকাতায় পা রেখেছিলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। তবে সেই স্মরণীয় সফর শেষ করে বুধবার কলকাতা ছাড়লেন তিনি। শহর ছাড়ার আগে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তিনি জানান, এই শহরের স্মৃতি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ডাকলে তিনি আবারও কলকাতায় (Kolkata) ফিরে আসবেন। তবে কলকাতায় আপাতত তাঁর দিন কাটলেও, নিজের জন্মভূমিতে ফেরা নিয়ে তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়েছে গভীর আক্ষেপ।

বাংলাদেশে (Bangladesh) কি তিনি ফিরতে চান না? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা হতাশার সুরেই তসলিমা জানান, তিনি অবশ্যই নিজের দেশে ফিরতে চান। কিন্তু দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তিনি নির্বাসনে রয়েছেন এবং তাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার তাঁর পাসপোর্ট পুননবীকরণ বা রিনিউ করছে না। এমনকি তাঁর বর্তমান সুইডিশ পাসপোর্টেও বাংলাদেশ সরকার ভিসা দিতে রাজি নয়। ফলে শত ইচ্ছা সত্ত্বেও জন্মভূমির মাটি ছোঁয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলকাতা ছাড়ার প্রাক্কালে এই শহরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তসলিমা বলেন, এখানকার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, তাতে তাঁর চোখে জল চলে এসেছে। শহর তাঁকে অত্যন্ত আপন করে নিয়েছে। তবে পুজোয় না এলেও আগামী অক্টোবর মাস কিংবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা বইমেলায় তিনি ফের এই শহরে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যখনই কলকাতা তাঁকে ডাকবে, তিনি ছুটে আসবেন। পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত তিনি ভারতেই থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই দীর্ঘ ১৯ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে কলকাতায় ফিরেছিলেন তসলিমা নাসরিন। দমদম বিমানবন্দরে নেমে তিনি নিজের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৭ সালে তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশকে কেন্দ্র করে কলকাতার একাংশে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন বাম সরকারের আমলে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সেই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। তবে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য মহলেও বড় আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। এদিনের তাঁর প্রস্থান এক বর্ণময় ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধ্যায়ের সাময়িক ইতি টানল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *