উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক নানা টানাপোড়েন পেছনে ফেলে অবশেষে কি তবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে? কূটনৈতিক মহলের জোর গুঞ্জন, বিমস্টেক সম্মেলনের প্রাক্কালে চলতি অগাস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম ভারত সফরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman India Go to)। ঢাকা ও দিল্লির বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ২২ ও ২৩ অগাস্ট এই ঐতিহাসিক সফরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে। যদিও দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের (India-Bangladesh Relation) সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বরফ গলাতে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর এক টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের (Bangladesh) নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন। সেখানে তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত জুলাইয়েও ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই সমস্ত আমন্ত্রণ রক্ষা করেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এরই মধ্যে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী কূটনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর মিলেছে। বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলবণ্টন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তি নবীকরণের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে জোরালো আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের আগে এই জলবণ্টন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

