Tarique Rahman BRICS Summit | ‘সব সময় ভারত নিয়ে ভাবলে চলবে না!’ ব্রিকস বিতর্ক ও নতুন বিদেশনীতির ইঙ্গিত বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman BRICS Summit) যোগ না দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জোরদার বিতর্কের মধ্যেই ভারতের নাম শুনে মেজাজ হারালেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা সবসময় নাশতা, লাঞ্চ এবং ডিনারের সময় শুধু ভারত নিয়ে ভাবতে পারি না। আমাদের এর বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে।” তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে গত ১৫ বছরের সম্পর্কের গতানুগতিক কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে একটি নতুন পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুরু করতে চায় ঢাকা।

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ ঘিরে মূলত জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল। বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে সরাসরি আমন্ত্রণ না জানিয়ে বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই প্রোটোকল নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তারেক রহমানকে বিমসটেক প্রধান হিসেবে যথাযথ মর্যাদাতেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং এর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগও রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রোটোকলজনিত আপত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী সেই সম্মেলনে যাননি। এই প্রসঙ্গেই হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আর পাঁচটা প্রতিবেশী দেশের মতোই একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হওয়া উচিত। সবসময় ভারতকে কেন্দ্র করে চিন্তাভাবনা করার বদলে বাংলাদেশকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও দেশের বিষয় নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার আমলের ভারত-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কৌশল থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই এই বার্তা দিয়েছে বর্তমান ঢাকা প্রশাসন। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গটিও ফের জোরালোভাবে তুলেছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি বর্তমানে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা ও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে একাধিক দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি হুমায়ুন কবীর। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের জল গড়ালেও ঢাকার বার্তা এখন জলের মতো পরিষ্কার—ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই সেই সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন একটি কাঠামোর মধ্যে দেখতে চায় বাংলাদেশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *