Tarique Rahman | তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! পরিস্থিতিতে নজর উদ্বিগ্ন দিল্লির

Tarique Rahman | তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! পরিস্থিতিতে নজর উদ্বিগ্ন দিল্লির

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান। অবশেষে লন্ডন থেকে ঢাকায় পা রাখলেন বিএনপির (BNP) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন তাঁর বিমান অবতরণ করে, তখন বাইরে লক্ষ লক্ষ বিএনপি কর্মীর স্লোগানে প্রকম্পিত আকাশ-বাতাস। তবে এই উল্লাসের আড়ালে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে, বিশেষ করে ভারতের জন্য, এক গভীর উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি:

২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ‘হাওয়া ভবন’-এর একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এই নেতা। শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) সরকারের পতনের পর থেকেই তারেকের দেশে ফেরার গুঞ্জন ছিল। আজ তা বাস্তবে রূপ নিল। সামনেই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির নির্বাচনী পালে জোর হাওয়া লাগাবে এবং দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং মানি লন্ডারিং মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট বা সরকারের বিশেষ আদেশে তিনি আইনি স্বস্তি পেয়েছেন।

ভারতের উদ্বেগ কেন? তারেক রহমানের ফিরে আসা ভারতের সাউথ ব্লকের জন্য মোটেও স্বস্তির খবর নয়। এর পেছনে রয়েছে কিছু কারণ ও অতীত অভিজ্ঞতা :–

 ১. অতীতের তিক্ততা:

 ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো (যেমন উলফা) বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।  সেই সময় দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা আজও ভারতের স্মৃতির মণিকোঠায় গেঁথে আছে।  ভারত আশঙ্কা করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পুনরায় সেই অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে।

২. ভারত-বিদ্বেষী রাজনীতি:

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যে তীব্র ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন বা ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে উঠেছে, তাতে বিএনপির একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে। তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন সময়ে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

৩. সংখ্যালঘু ও জামায়াত ফ্যাক্টর:

তারেক রহমানের সঙ্গে কট্টর ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সখ্যতা দীর্ঘদিনের। জামায়াতের পুনরুত্থান এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সম্ভাব্য নির্যাতন ভারতের জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ।

ভবিষ্যৎ কোন পথে? তারেক রহমান কি প্রতিশোধের রাজনীতিতে লিপ্ত হবেন, নাকি গণতান্ত্রিক উদারতা দেখাবেন—সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে ‘সোনালী অধ্যায়’-এ পৌঁছেছিল, তারেক রহমানের আগমনে তা বড়সড় হোঁচট খেতে পারে। তিস্তা চুক্তি থেকে শুরু করে ট্রানজিট ইস্যু—সবকিছুই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

তারেক রহমানের এই ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ। কিন্তু এই নতুন অধ্যায় কি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বয়ে আনবে, নাকি ধর্মীয় মৌলবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিরতাকে উসকে দেবে—তার উত্তর দেবে আগামী দিনের নির্বাচন। তবে এটুকু নিশ্চিত, ঢাকার রাজনীতিতে এখন আর দিল্লির একতরফা প্রভাব খাটবে না; পাশার দান উল্টে গেছে। তবে এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূস বা তার সহযোগী যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো বাংলাদেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের থেকে বিএনপি ভারতের জন্য তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প। তাই তাকেই সমর্থন করা ছায়া নয়াদিল্লির হাতে আর বিকল্প নেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *