উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনলেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) তারেক রহমান (Tarique Rahman)। এখন থেকে সরকারের কোনো ধরনের নিমন্ত্রণপত্র, প্রচারপত্র, অনুষ্ঠানের পোস্টার, ব্যানার কিংবা হোর্ডিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্দেশ জারি করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার থেকেই সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Govt Round)।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয়ে আসার পথে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, রাস্তার পাশে একটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির ব্যানার ও ফেস্টুনে তাঁর ছবি রয়েছে। দপ্তরে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ডেকে সব ধরনের সরকারি প্রচার মাধ্যম থেকে তাঁর ছবি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকারি প্রচারপত্রে আত্মপ্রচারের বদলে সরকারি কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ এবং নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্যকেই যেন প্রাধান্য দেওয়া হয়।
তারেক রহমানের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অতীতে যেখানে সরকারি রেডিও, টেলিভিশন থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে ছেয়ে থাকত দেশ, সেখানে এই প্রশাসনিক অপসংস্কৃতিতে দাড়ি টানায় অনেকেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জাঁকজমকহীনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রাত্যহিক জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরার মধ্যে এক ধরনের ‘অর্ডিনারি’ বা সাদামাটা ভাব স্পষ্ট।
বিএনপির (BNP) এক প্রবীণ নেতা এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসনে কাটিয়েছেন। অনেকের ধারণা ছিল তিনি হয়তো পশ্চিমা বা ‘সাহেবি’ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি যে দেশের আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই একজন, নিজের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি প্রথম থেকেই সেই ধারণার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন।”
সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তির চেয়ে জনগণের তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সূচনা করল বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।

