উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম বিপর্যয়ের (Taratala Godown Roof Collapsed) ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ (Proprietor arrested)। বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকার একটি আবাসন থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেও ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা (Rescue operation)। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলায় বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে নির্মাণাধীন ওই গুদামটির ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং ভারতীয় সেনা। হাইড্রোলিক ক্রেন ও গ্যাস কাটার ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলে উদ্ধারকাজ।এখনও পর্যন্ত ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচজনকে। মৃতদের মধ্যে চারজন নদিয়ার এবং এক জন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। জখম ২৪ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেতরে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শম্ভুনাথ বেহরা ও তাঁর সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। শম্ভুনাথ ছাড়াও ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার এবং লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজে দেয়। চা পাতা গুদামজাত ও প্যাকেজিংয়ের জন্য ওই নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণে গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

