উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের ‘প্রবাস’ জীবনের পর তিলোত্তমায় তসলিমার প্রত্যাবর্তন ঘিরে যেমন উল্লাস ছিল, তেমনই রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে ছড়াল চরম নাটকীয়তা। রাজ্য সরকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বাধ্য করার ঘটনায় এবার সরাসরি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিন (Tamslima Nasrin)। রবিবার কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুরো ঘটনাটিকে কবি জয়ের পাশাপাশি তাঁর নিজের প্রতিও এক চরম ‘অপমান’ বলে তোপ দাগেন তিনি।
শনিবারের সংবর্ধনা সভায় দাঁড়িয়ে তসলিমা যখন বাকস্বাধীনতা ও নারী-পুরুষের সমানাধিকারের পক্ষে সওয়াল করছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে সেই অনভিপ্রেত ঘটনা। লেখিকা নিজেই মঞ্চ থেকে কবি জয় গোস্বামীকে (Pleasure Goswami) ডেকে নিয়েছিলেন কিছু বলার অনুরোধ জানিয়ে। কিন্তু অডিটোরিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের একাংশের তুমুল বিক্ষোভ ও চিৎকারের মুখে পড়ে বক্তব্য না রেখেই মঞ্চ ছাড়তে হয় কবিকে।
এই চরম দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তসলিমা বলেন, ‘‘ওটা তো শুধু জয়কে অপমান করা হয়নি। আমাকেও অপমান করা হয়েছে। আমিই তো জয়কে ডেকেছিলাম। আমি আমার ভাষণে বাকস্বাধীনতার কথা বলেছি, আমাদের ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে। কারও কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।’’
এরপরেই প্রশ্নের সুরে তসলিমা বলেন, ‘‘আমার কথা যাঁরা পছন্দ করেছেন, তাঁদের মধ্যেই কি কেউ ছিলেন যাঁরা জয়কে মঞ্চে উঠতে দেননি? তা হলে তো দুরকম হয়ে গেল। একজন যখন মতপ্রকাশের পক্ষে বলছেন, তখন তাঁকে সমর্থন করছেন। আবার মতপ্রকাশের জন্য তিনি যখন কোনও কবিকে ডাকছেন, তখন তাঁর কথা শুনতে চাইছেন না।’’
মঞ্চের বিতর্কের রেশ টেনেই ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বা UCC চালু করার পক্ষে সুর আরও চড়ান তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, ধর্মীয় বৈষম্য দূর করতে ‘এক দেশ, এক আইন’-এর কোনো বিকল্প নেই।
উপমহাদেশের সামাজিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি সাফ জানান, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—তিন দেশেই সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে ইউসিসি (UCC) কার্যকর করা উচিত।
তসলিমার কথায়, “এক দেশ, এক আইন চাই। সবার জন্য সমান আইন চাই। নারীদের নিয়ে অনেক বৈষম্য থাকে, সেগুলো চলে যায় যদি আমি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি করি। এটা আবশ্যক।’’
দীর্ঘ দুই দশক পর কলকাতায় (Kolkata) পা রেখে একদিকে যেমন উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন তসলিমা, অন্যদিকে তেমনই বাকস্বাধীনতা ও ইউসিসি নিয়ে তাঁর এই কড়া মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে নতুন করে ব্যাপক চর্চা ও আলোচনার জন্ম দিল।

