উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু দেখেছিলেন মা। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আজও বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে নতুন আতঙ্ক— স্বামীকে খুনীদের হুমকি! অভিযোগ, তামান্নার মৃত্যুর (Tamanna Khatun) পেছনে যারা ছিল, তারাই এখন লাগাতার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে পরিবারকে। সেই আতঙ্কেই অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা সাবিনা। কিন্তু সেখানেও জুটল না রেহাই। জেলা হাসপাতাল থেকে পুলিশি ‘চাপে’ তাঁকে মাঝপথেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে পরিবার। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতায় (Kolkata) নিয়ে আসা হচ্ছে।
কালীগঞ্জে (Kaliganj) তৃণমূলের বিজয়োৎসবে চলা বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছিল কিশোরী তামান্নার। সেই ঘটনার প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাঁর মা সাবিনা। মেয়ের মৃত্যু দেখার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, মামলার অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে বা ফেরার থেকেই সাবিনাকে ভয় দেখাচ্ছিল। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তিনি একগুচ্ছ ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সাবিনা এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি, এমনকি চিকিৎসকরাও তাঁকে ছুটি দিতে চাননি। তা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ নিজেদের গাড়িতে জোর করে অসুস্থ সাবিনাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে। বাড়িতে ফেরার পর ওইদিন রাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। নিরুপায় হয়ে পরিবারের লোকেরা পুনরায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উল্লেখ্য, তামান্না খুনের ঘটনায় মোট ২৪ জনের নামে অভিযোগ থাকলেও পুলিশ (Police) এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে। বাকি অভিযুক্তরাই তামান্নার মাকে মামলার সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। যেখানে একজন শোকার্ত মায়ের পাশে প্রশাসনের দাঁড়ানোর কথা, সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে এমন ‘অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে বড়সড় প্রশ্ন।
