সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই রক্তস্নাত ইরান। দেশ থেকে মোল্লাতন্ত্রের উচ্ছেদ চেয়ে পথে নেমেছেন হাজারে হাজারে মানুষ। সেই আন্দোলনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের দমনপীড়নে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। সেই সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে আহতের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রেপ্তারিও।
গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে মোলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব সেদেশের মুক্তমনারা। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক শহরে পথে নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি, দেশে মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক। পতন হোক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন। বর্তমানে আমেরিকায় থাকা শাহ বংশের উত্তরসূরি রেজা পাহলাভিও প্রতিবাদীদের সমর্থনে বার্তা দিয়েছেন।
কিন্তু সময় গড়াতেই ইরানে প্রতিবাদীদের উপর বাড়ছে শাসকের দমনপীড়ন। জানা গিয়েছে, বছরের শেষ দিন এবং প্রথম দিন যথাক্রমে দুই এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ইরানে। লোর্ডেগানে দু’জন, কুহদাশতে এক জন এবং ইসফাহান প্রদেশে এক জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আজ়না শহরে নিরাপত্তাবাহিনীর এক সদস্য-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন প্রতিবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘাতে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয় ইরান। দেশ ছাড়েন শাহ। আয়াতোল্লা রুহোল্লাহ খোমেইনির হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় মোল্লাতন্ত্র। মাথায় বসেন খোমেইনি। সেই সময় তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বর্তমান ‘আয়াতোল্লা’ আলি খামেনেই। কিন্তু তাঁর আমলে ইরানে চরমে পৌঁছেছে মূল্যবৃদ্ধি। শুধু তাই নয়, মার্কিন ডলারের তুলনায় ব্যাপক হারে পড়েছে রিয়ালের দাম। এসবেরই প্রতিবাদে পথে নেমেছে ইরানের আমজনতা। এবার রক্তাক্ত হল ইরানের সেই প্রতিবাদ।
