জলপাইগুড়ি: রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের (Rajganj TMC Candidate) তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি টানাপোড়েনে নতুন মোড়। নির্বাচনে লড়ার পথে প্রধান বাধা দূর করতে মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন সোনার মেয়ে স্বপ্না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রেলের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কোনওরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা পেনশন তিনি ভোগ করবেন না। মঙ্গলবার বিকেলেই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (N F Railways) আলিপুরদুয়ার ডিভিশন কর্তৃপক্ষকে ইমেল করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বিবাদের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কঠোর নিয়মাবলী। স্বপ্না বর্মন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ছুটিতে থাকাকালীনই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। এমনকি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে থাকাকালীন কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা প্রচারে অংশ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়।
পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজগঞ্জ বিধানসভা থেকে প্রার্থী ঘোষণা করলে আইনি জটিলতা আরও বাড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী বা আমলারা নির্বাচনে লড়তে চাইলে পদত্যাগ করা বাধ্যতামূলক। স্বপ্না গত ১৬ মার্চ পদত্যাগপত্র জমা দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। উল্টে ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় রেল। এই অচলাবস্থা কাটাতে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের (Jalpaiguri Circuit Bench) দ্বারস্থ হন স্বপ্না বর্মন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও স্বপ্নার সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তর আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। রেলের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার আদালতে জানান, স্বপ্না বর্মন যদি তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং অবসরকালীন কোনও সুযোগ-সুবিধা নেবেন না বলে মুচলেকা দেন, তবে তাঁর ইস্তফা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আদালত থেকে বেরিয়েই কালক্ষেপ না করে বিকেল ৫টার আগে রেলকে ইমেল পাঠিয়ে দেন স্বপ্না। স্বপ্নার আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর মক্কেল অবসরকালীন সমস্ত সুবিধা ত্যাগের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এদিন আদালত চত্বরে স্বপ্না সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হলেও, তাঁর এই পদক্ষেপ রাজগঞ্জ কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থীপদ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
