পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: ‘রাজনীতির রাস্তাটা যেন কেমন!’ বলছেন স্বপ্না বর্মন।
শুক্রবার রাতে তাঁর পুরোনো বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উত্তরের রাজনীতিতে তো বটেই, গোটা রাজ্যের রাজনীতিতেই চর্চা চলছে। বিষয়টিকে ভোট পরবর্তী হিংসার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইস্যু করতে চাইছে তৃণমূল। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাই এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিকবড়াইক স্বপ্নার সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু স্বপ্না (Swapna Barman) নিজে কী চাইছেন? স্বপ্না কি চাইছেন রাজনীতি ছেড়ে দিতে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলের নেতা-নেত্রীরা যতই আশ্বাস বা ভরসা দিক না কেন, স্বপ্নার মুখে কিন্তু রাজনীতি সম্পর্কে হতাশার সুরই শোনা গিয়েছে। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানাতে এসেই তো তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতি যে এত নির্মম, আগে জানলে আসতাম না।’ আর রবিবার তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহলে কি খেলার জগতে ফিরবেন? নাকি রাজনীতির জগতেই রয়ে যাবেন? স্বপ্নার উত্তর, ‘খেলার রাস্তা তো খোলাই আছে। আমি নুনভাত খেয়ে খেলার জগতে লড়াই করে সাফল্য পেয়েছি। লড়াই কীভাবে করতে হয় সেটা আমার জানা আছে। কিন্তু রাজনীতির রাস্তাটা যেন কেমন! দেখি। ভাবছি কী করা যায়, কোনদিকে গেলে নিজেকে আগের মতো তুলে ধরতে পারব।’
রেলের (Rail) চাকরি ছেড়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্না। চাকরি নেই। ভোটে তিনি নিজে তো জেতেনইনি, তাঁর দলেরও ভরাডুবি হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে সখ্য নেই। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য দুটি কোয়ালিফাইং গেমসেও অংশ নেননি। স্বপ্না ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, পরের বারের এশিয়াডের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আরও দুই বছর সময় লাগবে। এই অবস্থায় অনেকেই স্বপ্নাকে পরামর্শ দিয়েছেন, পুনরায় খেলার জগতেই ফিরে যাওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে তাঁর ভাবমূর্তিও যেমন রক্ষা পাবে, তেমনই সকলে তাঁকে সহযোগিতাও করবেন।
আপাতত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ফের খেলার জগতেই ফিরে যাবেন, স্বপ্নার গত কয়েকদিনের কথাবার্তায় সেই ছবিটাই ফুটে উঠেছে। জেলা তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতাও দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, স্বপ্না এখন আর তাঁদের ফোন ধরেন না। শনিবার থানায় স্বপ্না একাই গিয়েছিলেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানাতে। তখন পাশে একজন তৃণমূল নেতা-নেত্রীকেও দেখা যায়নি। পরে জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপের সঙ্গে দলের নির্দেশে প্রকাশ এবং আলাদা করে কামতাপুরি নেত্রী অষ্টমী রায় গিয়েছিলেন স্বপ্নার বাড়িতে। মহুয়ার দাবি, থানায় ঢুকতে চেয়েও স্বপ্নার প্রতিবেশীদের ভিড় দেখে ভেতরে ঢোকেননি। প্রকাশ জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্বপ্নার বাড়ি যেতে নির্দেশ দিয়েছিল। প্রকাশের কথায়, ‘নির্বাচনে যে কেউ হারতেই পারেন। কিন্তু স্বপ্না আমাদের দেশের গর্ব। সেকথা মাথায় রাখতে হবে।’ মহুয়াও বলেছেন, ‘দল স্বপ্নার পাশে আছে। দলের জেলা সভানেত্রী হিসেবে তাই স্বপ্নার বাড়ি গিয়েছিলাম।’
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, স্বপ্নার পুরোনো বাড়ির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। ফরেন্সিক িটম বাড়িতে গিয়ে নমুনা নিয়ে এসেছে। পুলিশ স্বপ্নার বাড়ির আশপাশে টহল দিচ্ছে।
