North Bengal Tea | জলবায়ুর খামখেয়ালিপনায় ধাক্কা আবাদে! নিলামকেন্দ্রে কমছে ডুয়ার্স ও তরাইয়ের চায়ের দাম

North Bengal Tea | জলবায়ুর খামখেয়ালিপনায় ধাক্কা আবাদে! নিলামকেন্দ্রে কমছে ডুয়ার্স ও তরাইয়ের চায়ের দাম

শিক্ষা
Spread the love


শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: এপ্রিলে ডুয়ার্সে চায়ের (North Bengal Tea) ফলন বেশি হয়েছে সত্যি। কিন্তু উৎপাদনের ধরন অনেকটাই বদলে গিয়েছে গত ১০ বছরে। চা চাষের জন্য স্বাভাবিক আবহাওয়াটা আর নেই। কখনও মাত্রাতিরিক্ত গরম, কখনও লাগামছাড়া বৃষ্টি চায়ের আবাদের পক্ষে প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি করছে। কখন ফার্স্ট ফ্লাশ (মরশুমের প্রথম চা পাতা), কখন সেকেন্ড, রেইন বা অটাম ফ্লাশ আসছে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না বাগানের অভিজ্ঞ পরিচালকরাও।

স্বাভাবিক নিয়মে শুধু জানুয়ারির কনকনে ঠান্ডার সময় বাদ দিয়ে সারা বছরই কিছু না কিছু চা পাতা তোলা হয়। গোটা মরশুমের মোট উৎপাদনের ১ শতাংশ ফেব্রুয়ারিতে, ৭ শতাংশ মার্চে, ৪ শতাংশ এপ্রিলে, ৮-৯ শতাংশ মে-তে, ১০ শতাংশ জুনে, ১১ শতাংশ জুলাইয়ে, ১৩ শতাংশ অগাস্টে, সেপ্টেম্বরে ১৪ শতাংশ, অক্টোবরে ১৫ শতাংশ, নভেম্বরে ১০ শতাংশ ও ডিসেম্বরে ৬ শতাংশ ওঠার কথা।

ডুয়ার্সের (Dooars) কূর্তি চা বাগানের সিনিয়ার ম্যানেজার রাজেশ রুংটার কথায়, ‘এখন আর ওই হিসেব খাটে না। নীরবে চা শিল্পে বড়সড়ো পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে।’ চা বাগান বিশেষজ্ঞ রামঅবতার শর্মার মন্তব্য, ‘একটা ফ্লাশের সঙ্গে আরেকটা ফ্লাশ মিলেমিশে একাকার এখন। শীতকালেও হেলোপেলটিস পোকার উপদ্রব চলে। চা বাগানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশক জড়িত থাকলেও আগে কখনও এ জিনিস দেখিনি।’

সব ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে যাওয়ার পরিণতি কী? রামঅবতারের ভাষায়, ‘কোয়ালিটির ওপর বিরাট ধাক্কা নেমে এসেছে। এই ধাক্কা একেবারেই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে।’ গত ১০ বছর ধরে এমনটাই চলছে। শীতে যতটা ঠান্ডা পড়ার কথা, ততটা থাকছে না। ফলে ডিসেম্বরে যে বাগানে নেমে আসার কথা রুক্ষতা, সেখানে তখন সবুজের সমাহার। অসময়ের ওই উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাগানগুলিকেও রুটিনে বিস্তর বদল আনতে হচ্ছে।

চা গবেষণা সংস্থার (টিআরএ) উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রের ইনচার্জ তৃণা মণ্ডল বলেন, ‘তাপমাত্রার হেরফের এখন যথেষ্ট। যখন গরম পড়ছে, তখন তা মাত্রাতিরিক্ত। আবার যখন কমছে, স্বাভাবিকের থেকে কম থাকছে। একই জিনিস আর্দ্রতার ক্ষেত্রে। এতে চা গাছের বৃদ্ধি থমকে যাচ্ছে। নতুন কুঁড়ি আসছে না। গাছ জীর্ণ হয়ে পড়ায় পোকামাকড়ের হানা বাড়ছে। চায়ের গুণগতমান খারাপ হচ্ছে।’

উৎপাদনের প্যাটার্ন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো রয়েছে লুপার, হেলোপেলটিস, থ্রিপস, গ্রিন ফ্লাই, রেড স্পাইডারের মতো নানা রোগপোকার বাড়বাড়ন্ত। যাতে দিশেহারা বাগানগুলি। বাগান মালিকদের আক্ষেপ, উৎপাদনে ধাক্কা খেলেও চায়ের নিলামমূল্য হয় একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে থাকছে, নয়তো কমছে। ফলে বিপুল লোকসান সহ্য করতে হচ্ছে।

শিলিগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রে গত মার্চে ডুয়ার্স-তরাইয়ের বড় বাগানের চা কিলোপ্রতি দাম পেয়েছিল গড়ে ৩৩০.১৬ টাকা। সেটাই ২২ এপ্রিলের নিলামে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪৭.৫৭ টাকায়। এর মাঝের তিনটি নিলামে ওই গড় দাম ছিল যথাক্রমে ৩০৯.২৩, ২৭৭.৭৯ ও ২৫৯.৪১ টাকা। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চািষ সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর কথায়, ‘চা চাষের প্রকৃতিই পুরো বদলে গিয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা, পর্যাপ্ত ছায়াগাছ রোপণ, সেচে, পোকা দমনে সঠিক রাসায়নিক নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চা বিজ্ঞানী সৌমেন বৈশ্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *