উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উপনির্বাচনের প্রচারে রবিবারের শেষবেলায় চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। আগামী ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ঠিক আগের দিন রবিবারে নন্দীগ্রামে মেগা পদযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়ে মমতার পা ভাঙার ঘটনাকে ‘মিথ্যা নাটক’ বলে দাবি করে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন যে, রাজ্যে ১০ মার্চ দিনটিকে ‘মিথ্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা উচিত।
রবিবার সকালে টেঙ্গুয়ার মোড় থেকে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী অরূপকুমার দাস এবং দলের প্রার্থী হাসিরানি রথ। পদযাত্রা শেষে জনসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুবাবু ২০২১ সালের ১১ মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রেডিওডায়গনোসিস বিভাগের একটি চিকিৎসার নথি দেখিয়ে দাবি করেন, সেদিন মমতার পায়ে আদতে কোনো ‘ফ্র্যাকচার’ই হয়নি। পুরোপুরি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল বলে তোপ দেগে তিনি জানান, এই মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে উপনির্বাচন মিটলেই তদন্ত শুরু করবে রাজ্য সরকার।
পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন এবং রবিবারের মিছিলেই হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ হেঁটেছেন। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ রেকর্ড মার্জিনে জিতবেন বলেও তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারের ঝড়। এই আসনে ৬৫ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। বিগত নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কের জোরেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার তিনি নিজে সরে দাঁড়িয়ে ছেলে গোলাম নবি আজাদকে (রবীন) প্রার্থী করলেও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই লড়াই মূলত হুমায়ুনের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি, তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সফিউফজ্জামান শেখ এবং সিপিএমের মহম্মদ সইদ—প্রত্যেকেই শেষ মুহূর্তে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। বিরোধী ভোট যত বেশি ভাগ হবে, বিজেপি তত বেশি সুবিধা পাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।

