উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কনভয়ে হামলার (Convoy assault) অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনায় নজিরবিহীনভাবে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (MHA)। শনিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে মেদিনীপুর ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
শুভেন্দুর দাবি, চন্দ্রকোনা রোডের কাছে বেশ কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। এরপরই তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে চলে যান। সেখানে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তিনি। যতক্ষণ না দোষীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ততক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে
শেষে রাত দেড়টা নাগাদ তিনি এলাকা ছাড়েন। সূত্রের খবর, রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয় এবং এরপরই মন্ত্রক থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাঠানো হচ্ছে বিরোধী দলনেতার অফিসের তরফে। আগামী ১৩ তারিখ মঙ্গলবার চন্দ্রকোনায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু।
এনিয়ে বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেদিন থেকে হারিয়েছেন, সেদিন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা হচ্ছে।’ যদিও গোটা বিষয়টিকে ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, ‘জেলায় অস্থিরতা তৈরি করতে এবং থানার কাজে বাধা দিতেই এই নাটক।’ অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়া বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, স্লোগান শুনে ঘাবড়ে গিয়ে শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরা (CRPF) নিজেদেরই এক বিজেপি নেতা গৌতম কৌরিকে মারধর করেছে। সিআরপিএফ-এর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থেকেও কেন শুভেন্দু এতটা আতঙ্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
কেন্দ্রের রিপোর্ট তলব এবং শুভেন্দুর পালটা কর্মসূচির ঘোষণায় চন্দ্রকোনা সহ সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাজ্য রাজনীতিতে এই সংঘাত কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
