উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী সোমবার বিধানসভায় এক বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যেখানে পেশ করা হবে এক ঐতিহাসিক দুর্নীতি-বিরোধী (Anti Corruption) বিল। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “কোনও চোরকে জেলের বাইরে রাখা হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত এই বিলটি মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি: দুর্নীতি দমন এবং গুণ্ডাদমন। রাজ্য সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, বিলে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: কেবল কারাদণ্ড নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত যেকোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে তা নিলাম (Public sale) করবে রাজ্য সরকার। সরকারি, কেন্দ্রীয় বা বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
- ৭ বছরের কারাদণ্ড: বিলে ‘গুণ্ডা’ শব্দটিকে আইনগতভাবে সংজ্ঞায়িত করে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘুষ নেওয়া বা বেআইনি উপায়ে সম্পত্তি জমানোর মতো অপরাধে ৭ বছরের কঠোর কারাদণ্ডের সংস্থান রাখা হচ্ছে।
- নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাকে রুখতে প্রশাসন কঠোরতম আইনি পথ বেছে নেবে। ‘ন্যায় সংহিতা’-র ধারাগুলি প্রয়োগ করে অপরাধীদের কোণঠাসা করার পূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আগের জামিনের ব্যবস্থায় যেসব অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেত, এই নতুন বিলের ফলে তাদের শাস্তির পরিধি আরও নিশ্চিত হবে। জেলের ভেতরে বসে বা ২ মাসের জামিনে বেরিয়ে এসে দুর্নীতির বৃত্ত ঘোরানোর দিন শেষ হতে চলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। সোমবারের এই বিশেষ অধিবেশন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে উত্তেজনা। এই নতুন বিল পাস করিয়ে সরকার দুর্নীতিমুক্ত নতুন রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে কতদূর সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

