উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মধ্যমগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী ও অভিশপ্ত রাতের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১১টি দিন। ঘরের ছেলেকে হারিয়ে এখনও শোকস্তব্ধ পরিবার। এই আবহে রবিবার সন্ধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে খুন হওয়া আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) দেশের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ছবিতে মাল্যদান ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠনের পরমানন্দ ও উচ্ছ্বাসের মাঝেই চন্দ্রনাথের প্রয়াণ এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।
এদিন সন্ধ্যায় চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের পারলৌকিক ক্রিয়া ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের মা হাসিরানি রথের হাত ধরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় আশ্বাস দেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই।
মুখ্যমন্ত্রী বিদায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কান্নাভেজা চোখে আবেগ সামলাতে পারছিলেন না পুত্রহারা মা হাসিরানি রথ। তিনি বলেন, ‘‘উনি যে আমাদের বাড়িতে এসেছেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন উনি। অনেকেই পদ পাওয়ার পর সব ভুলে যান। কিন্তু উনি এসে কান্নাকাটি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন উনি।’’
হাসি দেবী আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি চন্দ্রনাথকে সবসময় কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যে সাবধানে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু চন্দ্রনাথ নিজের স্বভাবসুলভ সরলতার কারণে সেই সতর্কবার্তাকে তেমন একটা আমল দেননি।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এদিন সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এক মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন নিহতের মা। তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণার সুরে তিনি জানান, হয়তো ভবানীপুরের হার মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া। সেই রাজনৈতিক আক্রোশের কারণেই তাঁর নিরীহ ছেলেকে খুন হতে হলো।
উল্লেখ্য, এবারের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। দল ক্ষমতায় আসার ঠিক দু’দিনের মাথায়, গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের রাস্তায় ঘটে যায় সেই হাড়হিম করা ঘটনা। গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসে থাকা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে মোটরবাইকে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিতে চালক জখম হলেও চন্দ্রনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
রাজ্যে সরকার বদলের পর এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জনকে এবং বক্সার থেকে এক দুর্ধর্ষ ‘শার্প শুটার’কে গ্রেপ্তার করে আনে। তবে এই সুপারি কিলিং বা খুনের নেপথ্যে থাকা মূল চক্রী বা মাস্টারমাইন্ড আসলে কে, তা এখনও কুয়াশাচ্ছন্ন। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার সামলাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)। চন্দ্রনাথের পরিবারের আশা, কেন্দ্রীয় সংস্থাই দ্রুত এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসল কুশীলবদের টেনে বের করবে।
