উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শীর্ষ আদালতের (Supreme Courtroom) দুই বিচারপতির বেঞ্চে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইনি বৈধতা সংক্রান্ত মামলা নিয়ে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতির আসনের দুই সদস্যের মধ্যে দেখা গেল মতের অমিল। বুধবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ পাঁচ দিন ধরে চলা দীর্ঘ শুনানির পর নিজেদের রায় ঘোষণা করে।
মামলার মূল বিষয় ছিল, ২০২৩ সালের সংশোধিত আইনটিকে বৃহত্তর বা পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের কাছে পাঠানো উচিত কি না। রায়দান পর্বে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সরকারের পক্ষে বৃহত্তর বেঞ্চে মামলা পাঠানোর আর্জি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, নির্দিষ্ট আইনি নীতি প্রয়োগের মাধ্যমেই এই মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব, যার জন্য বাড়তি কোনো বৃহত্তর বেঞ্চের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তিনি নিজের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন কমিশনকে কেবল স্বাধীন থাকলেই চলবে না, তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ এবং নিরপেক্ষতার প্রমাণও রাখতে হবে। অন্যদিকে, এই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত মত প্রকাশ করেন বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা। তাঁর জোরালো যুক্তি ছিল যে, এই মামলার সঙ্গে সংবিধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর প্রশ্ন জড়িত। তাই নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এই বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চের দ্বারাই। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান কাঠামোয় আম্পায়ারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যাতে বিন্দুমাত্র সংশয় বা প্রশ্ন না ওঠে, সেই প্রসঙ্গটিও উঠে আসে।
দুই বিচারপতির এই দ্বিখণ্ডিত রায়ের পর এই মামলা স্বাভাবিকভাবেই তিন বিচারপতির বেঞ্চে যাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে তা এড়িয়ে সরাসরি প্রধান বিচারপতির কাছে ফাইল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এই বিষয়ে সংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ওই বিতর্কিত আইনে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান তিন সদস্যের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা রয়েছেন। যা নিয়েই মূলত আইনি লড়াই দানা বেঁধেছে।

