নয়াদিল্লি : উত্তরাখণ্ডে হাজার হাজার একর বনভূমি বেআইনিভাবে দখল হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চোখের সামনে বনাঞ্চল লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনও পদক্ষেপ না করায় তাঁদের ‘নীরব দর্শক’ (Mute Spectator) বলে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছে।
সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ উত্তরাখণ্ড সরকারের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘উত্তরাখণ্ড সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চোখের সামনে বনাঞ্চল দখল হয়ে যেতে দেখছে, কিন্তু তারা নীরব দর্শকের মতো বসে আছে।’ বনাঞ্চল রক্ষার আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কয়েক হাজার একর বনভূমি বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়া পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে শীর্ষ আদালত।
বনাঞ্চল দখলের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করতে সুপ্রিম কোর্ট উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব এবং প্রধান বন সংরক্ষণ সচিবকে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি (Reality-finding Committee) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। এই কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে কত পরিমাণ জমি দখল হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেবে।
আদালত বন দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, বেদখল হওয়া জমি অবিলম্বে নিজেদের দখলে নিতে হবে। সরকারের এই অভিযান যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।
