উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের একাংশ ‘ভুল তথ্য’ ছড়াচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কপিল সিব্বল (Kapil Sibal)। শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আদালত তাঁদের আবেদন খারিজ তো করেইনি, বরং নির্বাচন কমিশনের (ECI) নির্দেশিকা যাতে যথাযথভাবে পালিত হয়, সেই নির্দেশই দিয়েছে।
সাধারণত নিজের লড়া মামলার রায় নিয়ে বাইরে মন্তব্য না করলেও, এদিন সিব্বল বিরল পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেই এই ব্যাখ্যা প্রয়োজন। হাইকোর্টে (Calcutta Excessive Court docket) নির্বাচন কমিশনের একটি সার্কুলার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) নিয়ে আপত্তি উঠেছিল, যেখানে গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার (পিএসইউ) কর্মীদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। হাইকোর্ট কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল ওই সার্কুলার বাতিলের আবেদন জানায়নি। বরং আবেদন ছিল, সার্কুলারটি যেন ‘অক্ষরে অক্ষরে’ মেনে চলা হয়।
সিবাল যুক্তি দেন, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী র্যান্ডমাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরের সরকারি কর্মীদেরই গণনার কাজে নিয়োগ করার কথা। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court docket) কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন তাদের নিজস্ব এই নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। অর্থাৎ, ভোটগণনার দায়িত্বে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীরা নয়, রাজ্য সরকারি কর্মীরাও সমানভাবে থাকবেন।
এদিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান সিবাল। তিনি বলেন, “আমাদের আবেদন খারিজ হয়েছে বলে যে খবর চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। আপনারা ‘গোদি মিডিয়া’ হতেই পারেন, কিন্তু এতটা নিচে নামবেন না। অন্তত সঠিক তথ্যটুকু মানুষের সামনে তুলে ধরুন।” বিজেপি নেতার ভবিষ্যৎবাণী ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যম যে আসন সংখ্যা দেখাচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। সিবালের স্পষ্ট বার্তা, আদালতের রায়কে বিকৃত করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
