গঙ্গারামপুর: ভোটের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে তৃণমূলের অন্দরের বিবাদ এখন রাজপথে। তৃণমূলের এসসি-ওবিসি টাউন সভাপতি বাবু চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক দলীয় কর্মীকে গুলি করার অভিযোগ ঘিরে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বুধবার সন্ধ্যায় গঙ্গারামপুর চৌপথি এলাকায় আয়োজিত ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচি থেকে পুলিশ ও প্রশাসনকে তুলোধোনা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।
সুকান্ত মজুমদারের সরাসরি অভিযোগ, অভিযুক্ত বাবু চৌধুরী তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা তথা রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের (Biplab Mitra) ঘনিষ্ঠ। আর সেই কারণেই পুলিশ তাঁকে ছুঁতে ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিপ্লব মিত্রের চাপে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না। প্রশাসনের এই পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা আমরা মেনে নেব না।” তিনি অবিলম্বে অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ গঙ্গারামপুর চৌপথি এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগে নামেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে গঙ্গারামপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অশোক বর্ধন, জেলা এসসি মোর্চার সভাপতি সনাতন কর্মকার এবং গঙ্গারামপুর শহর মন্ডল সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ। সুকান্তবাবুর দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে, আর পুলিশ ব্যস্ত শাসকদলের নেতাদের আড়াল করতে।
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর চাপের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে খোদ শাসকদলের নেতার বিরুদ্ধে গুলিকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণ বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
