উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস নিপা (Nipah Virus)। গত সোমবার থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে দুই জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং আরও দুই জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এই জনস্বাস্থ্য সংকটের আবহেই শুরু হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার ফোনে। ভাইরাসের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (CM Mamata Banerjee) ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু এই সহযোগিতার বার্তার মাঝেই রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Banerjee)।
সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সরকারকে বিঁধে বলেন, ‘রাজ্যের উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চাওয়া। যাঁরা জীবাণু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ডেকে পাঠানো উচিত। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার মানুষের প্রাণ বাঁচানোই এখন অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ না নেয়, তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
পাল্টা দিতে দেরি করেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে শেখানোর প্রয়োজন সুকান্তবাবুদের নেই।” তিনি করোনার সময়কালকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “করোনা আবহে যখন সারা ভারত ধুঁকছে, তখন মোদী সরকারের অপদার্থতা দেখেছিল সবাই। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বারবার আবেদন সত্ত্বেও ভোটের দফা বাড়িয়ে কেন্দ্রই রোগ ছড়িয়েছিল। বিনা নোটিশে লকডাউন করে কোটি কোটি মানুষকে পথে বসিয়েছিল যারা, তাদের কাছ থেকে আজ জ্ঞান শুনব না।’
একদিকে যখন চিকিৎসকরা নিপা মোকাবিলায় কোমর বাঁধছেন, ঠিক তখনই এই দ্বৈরথ জনমনে প্রশ্ন তুলছে— জনস্বাস্থ্যের সঙ্কটেও কি রাজনীতিই বড় হয়ে দাঁড়াবে? আপাতত বিশেষজ্ঞ দল এবং রাজ্যের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
