উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার ঐতিহাসিক ‘সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তনকে (Suhrawardy Avenue Renamed) কেন্দ্র করে রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হলো। দীর্ঘদিনের এই রাস্তার নাম বদলে রাখা হচ্ছে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার অন্যতম চরিত্র গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’-র নামে। কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছেন। তবে এই নাম বদলের নেপথ্যে থাকা ঐতিহাসিক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। পুরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ পরিচিত হবে ‘গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড’ (Gopal Mukherjee Street) নামে। শুভেন্দুর এই পদক্ষেপের লক্ষ্য যে ১৯৪৬ সালের ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ (Nice Calcutta Killings)-এর অন্যতম খলনায়ক তথা অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শাহিদ সোহরাওয়ার্দির নাম মুছে ফেলা, তা স্পষ্ট।
এই বিজ্ঞপ্তির কথা জানাজানি হতেই ময়দানে নামেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ফেসবুক পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘সম্ভবত আপনি ‘কলকাতা কিলিং’-এর কথা বলতে চেয়েছেন। এঁর নাম হুসেন সাহিদ সুরাবর্দি। কিন্তু বাস্তব হল, এই বিতর্কিত সুরাবর্দির নামে কিন্তু রাস্তা ছিল না। রাস্তা তাঁর কাকার নামে, তিনি স্যর ডাঃ হাসান সুরাবর্দি। তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পূর্ব রেলের মুখ্য স্বাস্থ্য অফিসার, সামরিক বাহিনীর চিকিৎসক। পরে বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি মূলত কৃতী শিক্ষাবিদ বলে পরিচিত। রাস্তা তাঁরই নামে। তাঁর ভাইপো হুসেন সুরাবর্দি প্রশাসনিক প্রধান হয়ে বিতর্কিত গণহত্যার সঙ্গে জড়ান। রাস্তা তাঁর নামে ছিল না।’ পুরসভা আবার তথ্যপরীক্ষা করুক বলে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধও করেন তিনি।
১৯৪৬ সালে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-র কথা প্রায়ই বলে থাকে বিজেপি। ১৯৪৬ সালে হিন্দু হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। যার নামে নতুন রাস্তাটি করা হয়েছে। তিনি হিন্দুদের মসিহা হয়ে উঠেছিলেন সেই সময়। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট। মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে ‘১৬ অগস্ট’কে ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Motion Day 1946) হিসাবে ঘোষণা করা হয়। রাস্তায় খোলা অস্ত্র, লাঠি নিয়ে ‘লড় কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ স্লোগান দিয়ে ১৬, ১৭, ১৮ অগাস্ট নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়। সেই সময়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রীর গদিতে হোসেন শাহিদ সোহরাওয়ার্দি। শোনা যায় তাঁর নির্দেশে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসেছিল পুলিশ। তখন নিজের দলবল নিয়ে মাঠে নামেন গোপাল পাঁঠা। বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেন তিনি। ২০০৫ সালে গোপাল পাঁঠার মৃত্যু হয়।

