উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এবার বিজেপির (BJP) সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী (Subsequent CM of West Bengal) নির্বাচন করা। দলীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবারই রাজনাথ সিং রাজ্যে আসতে পারেন। পরিষদীয় দলের বৈঠকেই নাম চূড়ান্ত হতে পারে। আগামী ২৫ বৈশাখ শপথ নিতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন একটাই— হাইকম্যান্ডের তুরুপের তাস কে?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাংলায় বড় হওয়া, পড়াশোনা করা, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গের যুক্ত এমন কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম কারিগর তিনি। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করেছেন। হিন্দুত্বের রাজনীতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে ভোটবাক্সে রূপান্তর করতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থনও তাঁর দিকেই।
শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাঁর ‘তৃণমূল’ অতীত। সেক্ষেত্রে সংঘ ঘনিষ্ঠ ও আদি বিজেপি নেতাদের পাল্লা ভারী হতে পারে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। পিছিয়ে নেই দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও (Dilip Ghosh)। দলের একাংশ মনে করছেন, আদি কর্মীদের চাঙ্গা করতে দিলীপবাবুর কোনও বিকল্প নেই।
কিন্তু বিজেপি ইদানীং রাজস্থান বা ওডিশার মতো রাজ্যে ‘লো প্রোফাইল’ নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী করে বড় চমক দিয়েছে। সেই ফর্মুলায় বাংলার ক্ষেত্রেও স্বপন দাশগুপ্ত বা সম্পূর্ণ নতুন কোনও নাম উঠে আসা অসম্ভব নয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় হাইকম্যান্ড যে পরীক্ষানিরীক্ষার পথে হাঁটতে পারে, এমন জল্পনাও তুঙ্গে। আপাতত শুভেন্দু অধিকারী আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, দিল্লির সবুজ সংকেত কার ভাগ্যে জোটে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।
