ঘনঘন বদলি হয়েছেন থানার ওসি। বদলি করা হয়েছে পুলিশকর্তাদের। এমনকী, পুলিশ কমিশনারকেও বদল করেছে কমিশন। বঙ্গে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে পুলিশকর্তা ও আধিকারিকদের বদলিও একটি বড় কারণ বলে ধারণা লালবাজারের। নির্বাচন বিধি লাগু হওয়ার কিছুদিন পরই ২৯ মার্চ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, কালীঘাট থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট, বউবাজার, মুচিপাড়া, উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, ভাঙড়, পোলেরহাট-সহ ৩১টি থানার ওসিকে বদলি করে দেওয়া হয়।
একইদিনে সারা রাজ্যের ১৮৪ জন পুলিশের ইন্সপেক্টরকে বদলি করে নির্বাচন কমিশন। সেই জায়গায় অন্য থানা বা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসেন নতুন ওসিরা। যদিও তার কয়েকদিন আগে সরানো হয়েছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে। তার বদলে পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় নন্দাকে। ক্রমে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কয়েকজন কর্তাকে বদল করে নির্বাচন কমিশন। পরের দফায় পার্ক স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, হেয়ার স্ট্রিট-সহ ৬ থানার ওসিদের বদলি করা হয়। এরপরও কলকাতার বেশ কয়েকটি থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসির রদবদল করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বদলি হয় দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট থানায়।
আরও পড়ুন:
২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসির পদে নিয়ে আসা হয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি উৎপল ঘোষকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত ২৫ এপ্রিল কালীঘাট থানার ওসির পদে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর গৌতম দাসকে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু গৌতমের বিরুদ্ধে উঠতে শুরু করে একের পর এক অভিযোগ। গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন ভবানীপুরের শিশু, মহিলা, সাধারণ ভোটারদের উপর লাঠিচার্জ করার অভিযোগ ওঠে গৌতমের বিরুদ্ধে। তারই জেরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়।
এছাড়াও ওসির চেয়ারে বসে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে ছবি তুলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কের মুখে পড়েন গৌতম। তাঁকে সরিয়ে উল্টোডাঙার মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে ওই জায়গায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু একদিনের মধ্যেই ফের কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের পোলেরহাট থানার অতিরিক্ত ওসি বলাই বাগকে কালীঘাট থানার ওসির পদে বদলির নির্দেশ দেয় লালবাজার। ঘনঘন পুলিশ বদলির স্ট্র্যাটেজিতে বিজেপির এত ভাল ফল বলে অভিমত লালবাজারের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
