উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বিঘ্নেই শেষ হল একাদশ দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। রবিবার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় পরীক্ষাপর্ব সম্পন্ন হয়। সকাল ১০ টা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়া হয়। ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। শুধুমাত্র স্বচ্ছ জলের বোতল এবং অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে ভিতরে ঢোকার অনুমতি মিলছে পরীক্ষার্থীদের। এদিন পরীক্ষায় বসেন ২,৪৬,৫০০ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৩১২০ বিশেষ ভাবে সক্ষম ছিলেন, ৯৩ শতাংশ এদিন পরীক্ষা দিয়েছেন। মোট ৪৭৮টি কেন্দ্রে নেওয়া হয়। জানা গেছে, নবম-দশমের মতো একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ পরীক্ষাতেও ভিন্রাজ্য থেকে অনেকে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছিল। সেদিনও নির্বিঘ্নেই পরীক্ষা হয়েছিল। এদিনও নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখা হয়নি। এসএসসির কন্ট্রোল রুম থেকে যেমন নজর রাখা হয়েছে, তেমনি যেকোনও সমস্যায় হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার সুবিধাও রেখেছিল কমিশন।
উল্লেখ্য ২০১৬ এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়। টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। যার জেরে ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে চাকরি খোয়ান ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। গোটা ঘটনায় মুখ পুড়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ও রাজ্য সরকারের (West Bengal Governament)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ফের নতুন করে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। এবারের পরীক্ষায় চাকরি খোয়ানো ‘যোগ্য’ শিক্ষকরাও বসার সুযোগ পেয়েছেন। তবে কোনও ভাবেই দাগি চাকরি হারারা যাতে বসতে না পারে তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও রাজ্য সরকার দাগি চাকরিহারাদের পরীক্ষায় বসা নিশ্চিত করতে একাধিকবার হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে দরবার করে। কিন্তু কোর্ট বারংবার এই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। একজনও দাগি যদি পরীক্ষায় বসে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে তাই বাড়তি সতর্ক রয়েছে এসএসসি।
