রাজ্যে পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় প্রতিবারই চমক থাকে। বিনোদুনিয়া এবং খেলার দুনিয়া দুই ক্ষেত্র থেকেই প্রার্থী তালিকায় প্রতিবার কোনও না কোনও নতুন মুখ উঠে আসেন। ছাব্বিশে বিনোদুনিয়ায় নতুন মুখ সেভাবে নেই। তবে খেলার দুনিয়া থেকে এবারও একাধিক চমক দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিশেষ করে বিজেপির শক্ত মাটি উত্তরবঙ্গে ক্রীড়াজগত থেকে দুই তারকাকে তুলে এনে রাজনীতির মাঠে ‘খেলা’র সুযোগ করে দিয়েছেন দলনেত্রী।
এই বিষয়ে আরও খবর
সমস্ত জল্পনা সত্যি করে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল ভবনে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন তারকা অ্যাথলিট। এবার সরাসরি প্রার্থী। এই রাজগঞ্জ কেন্দ্র আগেও তৃণমূলের হাতে ছিল। তবে স্বপ্নের এই প্রার্থীপদ গোটা জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের পক্ষে হাওয়া তৈরি করতে পারে। টিকিট পেয়ে প্রত্যাশিতভাবেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। স্বপ্না বলছেন, “রাজগঞ্জ তৃণমূলের ছিল তৃণমূলের থাকবে। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের খেলোয়াড়দের জন্য কাজ করতে চাই।”


উত্তরে তৃণমূলের আর এক চমক প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল। কোচবিহারের এই আসনটি গতবার হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। ওই আসন পুনরুদ্ধারে ভূমিপুত্র তথা বাংলার প্রাক্তন পেসারের উপর আস্থা রেখেছে শাসকদল। রাজনীতিতে মঙ্গলবারই হাতেখড়ি হয়েছে শিবশঙ্করের। নতুন মাঠে খেলতে অসুবিধা হবে না? জবাব শিবশঙ্কর বলছিলেন, “খেলার মাঠেও একসময় নতুন ছিলাম। অভিজ্ঞতা বেড়েছে ভালো বোলিং করেছি। রাজনীতির ময়দানেও তাই। অভিজ্ঞতা বাড়লে ভালো কাজ করন।” কী করবেন জিতলে? খেলার মাঠের ‘ম্যাকো’ বলছেন, “আমি মাঠের লোক। খেলাধুলোর লোকজনের জন্য কাজ করতে চাই। উত্তরবঙ্গে একটা খেলোয়াড়দের জন্য হস্টেলের কথা বলব মমতা-অভিষেককে।”


প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসু এর আগেও ভোটে লড়েছেন। তৃণমূলের টিকিটে উলুবেড়িয়া থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে লড়বেন বিদেশ। তিনিও টিকিট পেয়ে ধন্যবাদ দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যপাধ্যায়কে। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “তৃণমূল রাজ্যে অনেক উন্নয়ন করেছে। রাজ্যে ৯৬টা প্রকল্প চলে। আশা করি এবারও আমরা জিতব।”
এ তো গেল খেলার মাঠের চমক। এসবের মধ্যে একজন ক্রীড়াবিদ হয়তো কিছুটা হতাশ। তিনি বাংলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। এবার আর ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে দেখা যাবে না রাজ্যের বিদায়ী ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীকে। গতবার বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে ৩২,৬০৩ ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিধানসভায় পা রেখেছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক। জয়ের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে বড় চমক দিয়েছিলেন। তবে এবারে তার জায়গায় শিবপুরের টিকিট পেলেন ড. রানা চ্যাটার্জি।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
