নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: দক্ষিণ খয়েরবাড়ি (South Khairbari) ব্যাঘ্র পুনর্বাসনকেন্দ্রের ওয়াইল্ডলাইফ গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন পার্থসারথি সিনহা। তাঁর দায়িত্ব ছিল চিতাবাঘগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা। নিয়মিত স্নান করানো, খাবার দেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চিতাবাঘগুলির দেখভাল করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। তাদের দেখলেই পার্থ বুঝে যান কী অসুবিধা হচ্ছে। পার্থর পরিচর্যা ও হাতের স্পর্শেই দীর্ঘদিন বেঁচেছিল রাজা নামের বাঘ।
সেই পার্থকেই বদলি করে দেওয়া হল বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের পশ্চিম রেঞ্জে ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার পদে। হাতে বদলির কাগজ পেয়ে আনন্দের বদলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পার্থ। জানালেন, নিজের সন্তানের মতো এখানকার চিতাবাঘগুলিকে লালনপালন করে আসছিলেন সেই ২০০৫ সাল থেকে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ওদের মায়া ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে তাঁকে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court docket) নির্দেশের পর তিনটি সার্কাস থেকে ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসনকেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তৎকালীন বনমন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মন ও রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল অতনু রাহা বাঘগুলির সঙ্গে পার্থকেও ওই জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। সেসময় পার্থ সার্কাসে বাঘগুলির দেখাশোনা করতেন। ২০১১ সালে পার্থর ওয়াইল্ডলাইফ গার্ড পদে চাকরির স্থায়ীকরণ হয়।
দক্ষিণ খয়েরবাড়ি যৌথ বন পরিচালন কমিটির সম্পাদক কাজি রতনের অভিযোগ, ‘কুঞ্জনগর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ২৫টি চিতাবাঘ এই ব্যাঘ্র-প্রকল্পে রয়েছে। এদের দেখাশোনার দায়িত্ব পার্থ ছাড়া অন্য কাউকে দিলে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
কাজি রতন জানালেন। নতুন যাঁকে দায়িত্বে আনা হয়েছে, তাঁর বাঘ সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। তাছাড়া ওই কর্মী ৩১ জানুয়ারি অবসর নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, পার্থ এখানেই থাক।’
এব্যাপারে পার্থ বলেন, ‘আমাকে বক্সায় বদলি করা হয়েছে। তবে সেখানে জঙ্গল পাহারার কাজ করতে হবে। এই কাজের অভিজ্ঞতা আমার একদম নেই। যদিও সরকারি চাকরি। স্যররা যেটা ভালো বুঝেছেন, সেটা করেছেন। আমাকে যে কাজই দেওয়া হবে, সেটা নিষ্ঠার সঙ্গে করার চেষ্টা করব।’
আবেগতাড়িত কণ্ঠে পার্থ বলেন, ‘ওদের ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ এখানে চিতাবাঘের শাবক থেকে শুরু করে বড় চিতাবাঘ দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। ওদের খাবার দেওয়া, নখ কেটে দেওয়া, স্নান করানো, অসুস্থ হলে স্যালাইন দেওয়া, রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত নেওয়া- সব কাজ আমি করতাম। নিজের সন্তানের মতোই আগলে রাখতাম ওদের।’
পার্থর বদলির ব্যাপারে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। ফোন ধরেননি উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি।
