উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বারুইপুর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর (Sonarpur Gang Rape)। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে স্বামীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে এক মাঝবয়সী বধূকে দলবেঁধে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল এলাকারই কয়েক জন দাগি দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার গভীর রাতে সোনারপুর থানা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। শনিবার সকালে নির্যাতিতা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে বাকি অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা বধূ সোনারপুরে তাঁর জামাইবাবুর বাড়িতে ছিলেন। রাতের শেষ ট্রেনে মহিলার স্বামী বাড়ি ফেরেন। এরপর জামাইবাবু ও তাঁর স্ত্রী অন্য একটি বাড়িতে চলে যান। খাওয়া-দাওয়া সেরে জামাইবাবুর ভাড়াবাড়ির ঘরে স্বামীর সঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন ওই বধূ।
অভিযোগ, গভীর রাতে আচমকাই পাঁচ জন দুষ্কৃতী জোর করে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ঘুম থেকে টেনেহিঁচড়ে স্বামীকে মারধর শুরু করে এবং জোর করে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়। স্বামী ও স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুষ্কৃতীরা ঘরের দরজা আটকে দেয়। এরপর ঘরের মধ্যে ওই বধূকে একা পেয়ে পাঁচ জন মিলে একে একে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দম্পতি। প্রাণ বাঁচাতে ওই রাতেই নির্যাতিতা ক্যানিংয়ে তাঁর মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে শনিবার সকালে সোনারপুর থানায় এসে তাঁরা পুরো বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, যাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তারা এলাকার অত্যন্ত পরিচিত দাগি সমাজবিরোধী। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অতীতে তারা জেলও খেটেছে। তাদের মধ্যে এক অভিযুক্ত কিছুদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এমনকী, এই ঘটনার ঠিক আগের দিনও অভিযুক্তরা অন্য একটি পাড়ায় গিয়ে এক ব্যক্তিকে মারধর করেছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনারপুরের যে বস্তি এলাকায় এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই দুষ্কৃতীদের ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের কারবার চলে এবং কমবয়সি ছেলে-মেয়েরা মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত। দুষ্কৃতীদের এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) করানো হয়েছে। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত পাকড়াও করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল তল্লাশি শুরু করেছে।

