Sonam Wangchuk | হাসপাতাল থেকেই অনশন ভাঙার বার্তা সোনম ওয়াংচুকের! সামনে এল দুই শর্ত

Sonam Wangchuk | হাসপাতাল থেকেই অনশন ভাঙার বার্তা সোনম ওয়াংচুকের! সামনে এল দুই শর্ত

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তিন সপ্তাহের দীর্ঘ লড়াই। যন্তর মন্তরের খোলা আকাশের নিচে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) গত শনিবার পুলিশি হস্তক্ষেপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল সফদরজং হাসপাতালে। রবিবার সেই হাসপাতাল থেকেই এল এক নতুন মোড়। সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অংমো জানিয়েছেন, দুটি সুনির্দিষ্ট শর্ত মানা হলে আগামী সোমবারই অনশন (Starvation Strike) প্রত্যাহার করতে রাজি এই পরিবেশকর্মী।

সোনম ওয়াংচুকের দাবি এখন আর কেবল ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়, বরং তা জাতীয় ইস্যু। তার অনশন ভাঙার জন্য যে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে তা হল: ১. রাজনৈতিক সংলাপ: শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। ২. সংসদীয় নিশ্চয়তা: সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে যে আন্দোলনের আগুন তিনি জ্বালিয়েছিলেন, তা সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন সোনম। হাসপাতাল বদলের আবেদন নিয়ে এদিন বড় ধাক্কা খেয়েছেন সোনম ওয়াংচুকের পরিবার। দিল্লির হাইকোর্টে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি অংমো আবেদন করেছিলেন যেন সোনমকে সফদরজং থেকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবারের দাবি ছিল, জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকে কার্যত ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে।

তবে বিচারপতি মিনি পুষ্করণার বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “সোনমের স্বাস্থ্য যখন ভেঙে পড়ছে, তখন সরকারি প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল তাকে চিকিৎসার আওতায় আনা। এখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়নি।” আদালত আরও জানিয়েছে, যেহেতু ডাক্তাররা তার নিয়মিত চিকিৎসা করছেন, তাই আপাতত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের প্রয়োজন নেই।

সফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের প্রাণদায়ী প্যারামিটারগুলো এখন স্থিতিশীল। দীর্ঘ অনশনের ফলে তার শরীরের ভেতরে যে শারীরবৃত্তীয় চাপ (physiological stress) তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল সারাক্ষণ তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। রক্ত পরীক্ষায় সামান্য উন্নতি হলেও, চিকিৎসকদের মতে তাকে আপাতত ২৪ ঘণ্টার কড়া নজরদারিতে থাকতেই হবে।

হাসপাতালের বিছানায় থেকেও নিজের লড়াই থেকে সরেননি সোনম। বার্তা দিয়েছেন আগামী ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে আয়োজিত পদযাত্রায় সবাইকে সামিল হওয়ার জন্য। সরকারের সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের এই টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। দেখার বিষয়, সোমবার কি রাজনৈতিক মহল তার শর্ত মেনে নেবে, নাকি দিল্লির এই উত্তাপ আরও বাড়বে?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *