Sonam Wangchuk | “আমি গান্ধী বা হিরো নই, নিজেরা হিরো হয়ে উঠুন”! অনশনের ১৪ দিনে দেশবাসীকে বার্তা ওয়াংচুকের

Sonam Wangchuk | “আমি গান্ধী বা হিরো নই, নিজেরা হিরো হয়ে উঠুন”! অনশনের ১৪ দিনে দেশবাসীকে বার্তা ওয়াংচুকের

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) ধর্না-আন্দোলন শনিবার ২২ দিনে পদার্পণ করল। এই আন্দোলনের সমর্থনে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকের পাশে দাঁড়িয়ে লাদাখের চেনা মুখ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) আমরণ অনশন টানা ১৪ দিনে পৌঁছাল।

দীর্ঘ অনশনের কারণে প্রখ্যাত এই সমাজকর্মীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সর্বশেষ মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে সাত কেজি কমে গিয়েছে। বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ নেমে দাঁড়িয়েছে ১০৬/৭৪-এ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানিয়েছেন, শরীরে শক্তি কমে আসছে এবং ক্লান্তি বাড়ছে। তবে শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও, আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে তিনি একচুলও নড়তে রাজি নন।

আন্দোলনে বিপুল জনসমর্থন মেলায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানালেও, নিজেকে ‘মহিমান্বিত’ করার প্রচেষ্টায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনেকে আমাকে একবিংশ শতাব্দীর গান্ধী বা হিরো বলছেন। এই ধরনের কথা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। দয়া করে অন্য কারও মধ্যে হিরো না খুঁজে, নিজেরা নিজেদের হিরো হয়ে উঠুন। নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করুন।”

প্রশ্নফাঁসের জেরে হতাশ পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনাকে সামনে রেখে আমজনতার বিবেককে নাড়া দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ যদি ওই পড়ুয়াদের জায়গায় আপনার নিজের বোন বা মেয়ে থাকত, আপনি কি ঘরে বসে থাকতেন?” যারা সরাসরি দিল্লির যন্তর মন্তরে আসতে পারছেন না, তাঁদের প্রতি নিজের নিজের এলাকায় অন্তত একদিনের প্রতীকী অনশন করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন এই আন্দোলনের তরফে এক শান্তিপূর্ণ ‘সংসদ অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশের নাগরিকদের এই মিছিলে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওয়াংচুক বললেন, “আমাদের মতো আপনাদের ২৪ দিন না খেয়ে থাকতে হবে না। আপনারা পেট পুরে খেয়েই আসুন, কিন্তু নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০ জুলাই আমাদের পাশে দাঁড়ান।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় তিনি এই অনশনে বসেছেন এবং তাঁর জীবন নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ফলে প্রশাসন যদি জোর করে তাঁকে আন্দোলন থেকে সরানোর চেষ্টা করে, তবে তা হবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) মূল দাবিগুলি হল, ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) অবিলম্বে পদত্যাগ। ২. প্রশ্নফাঁসের জেরে মৃত পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।

গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে শামিল হয়েই আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। এখন দেখার, আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের জল কতদূর গড়ায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *