উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও ভারতের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা চিন্তা ছিলই। হংকংয়ের বিরুদ্ধে সেই আশঙ্কা পুরোপুরি দূর করে দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। দুবাইয়ের বাইশ গজে স্মৃতির মন্ধানার (Smriti Mandhana) রেকর্ড-ভাঙা ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে হংকংকে ১৩৭ রানে উড়িয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপের (Womens Asia Cup) সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ভারত।
টসে জিতে হংকংয়ের অধিনায়ক নাতাশা মাইলস প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারতকে। শেফালি বর্মা (২৮) শুরুটা কিছুটা দেখেশুনে করলেও অন্য প্রান্তে চেনা ছন্দে ছিলেন স্মৃতি। ৬৪ বলে ১২৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কা। দলের প্রায় ৭০ শতাংশ রান একাই করেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এই ইনিংসের সুবাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৮টি শতরান করে সর্বকালের শীর্ষে পৌঁছে গেলেন স্মৃতি, ভেঙে দিলেন মেগ ল্যানিং এবং লরা উলভার্টের ১৭টি সেঞ্চুরির রেকর্ড। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রিকেটে মিতালি রাজের (Mithali Raj) ১০,৮৬৮ রানের রেকর্ড টপকে (file damaged) সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়ে উঠলেন তিনি। এছাড়া মহিলাদের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (১১৯ রানের আগের রেকর্ড ভেঙে)। স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ভারত। প্রতীকা রওয়াল (১০), রিচা ঘোষ (১১) এবং হরমনপ্রীত কৌর (১০) দ্রুত আউট হলেও রানের গতি কমেনি।
১৯৪ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে খাবি খায় হংকং। পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ১৬ রান তোলে তারা। ভারতীয় স্পিনার ও পেসারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে টিকতে পারেননি বিপক্ষ ব্যাটাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন অধিনায়ক নাতাশা মাইলস। এছাড়া দু’অঙ্কের ঘরে পৌঁছন কেবল ইয়াসমিন দাসওয়ানি (১১) এবং মারিনা ল্যাম্পলাফ (১৪)। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় হংকংয়ের ইনিংস।
ভারতের সফলতম বোলার দীপ্তি শর্মা মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া নন্দিনী শর্মা, শ্রী চরণী এবং প্রেমা রাওয়াত প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট দখল করেন।
এই দাপুটে জয়ের সুবাদে গ্রুপ লিগে টানা দুই ম্যাচ জিতে +৫.৭৭৫ নেট রান রেট নিয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা পাকা করল ভারত। আগামী শনিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নামবে দল, তবে এই জয়ের পর সেই ম্যাচের গুরুত্ব এখন অনেকটাই কম।

