ডামডিম: উড়ন্ত বিমানের দরজা খুলতেই সামনে অসীম নীল আর সাদা মেঘের ভেলা। এক মুহূর্তের স্থির সিদ্ধান্ত, আর তারপরই শূন্যে ঝাঁপ। ভয়কে জয় করে নির্দিষ্ট উচ্চতায় প্যারাশুট খুলে মাটিতে সফল অবতরণ—এটাই এখন জলপাইগুড়ির ডামডিমের মেয়ে মহিমা ছেত্রীর (Mahima Chhetri) দৈনন্দিন জীবনের রোমাঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী স্কাই ডাইভার (Sky Diver) হিসেবে নিজের নাম খোদাই করেছেন তিনি।
ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া মহিমার জীবনটা শুরুতে ছিল আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই। সেনা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, তারপর আইন নিয়ে স্নাতক। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি অদম্য আকর্ষণ তাঁকে টেনে নিয়ে যায় নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের জগতে। সেখান থেকেই শুরু হয় স্কাই ডাইভিংয়ের মতো চরম সাহসিকতার খেলার সফর।
বিদেশে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘এ’ ক্যাটাগরির লাইসেন্স অর্জন করেছেন মহিমা। এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি সফল ‘জাম্প’ বা লাফ দিয়েছেন তিনি। তবে এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক কঠিন আর্থিক লড়াই। অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ এই খেলা চালিয়ে যেতে নিজের উপার্জনের পাশাপাশি ঋণের ওপরও ভরসা করতে হয়েছে তাঁকে। মহিমার লক্ষ্য এখন আরও বড়—আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা।
মহিমা ছেত্রীর এই অনন্য কৃতিত্বকে সম্মান জানাতে আজ তাঁর ডামডিমের (Damdim) বাড়িতে পৌঁছে যান মাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বাড়াইক। তিনি মহিমাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান। সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান এবং একটি বিশেষ শংসাপত্রও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা মহিমাকে নিয়ে গর্বিত; তাঁদের মতে, মহিমা এখন পাহাড় ও সমতলের মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
