সিতাই: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মহালয়া। দুর্গাপুজো একেবারে দোরগোড়ায়। শহর, মফসসল থেকে গ্রামজুড়ে যখন পুজোর সাজোসাজো রব, আনন্দের আবহ তখনই সিতাইয়ের সুভাষপল্লি বয়েজ ক্লাবের উদ্যোক্তাদের মুখে প্রবল দুশ্চিন্তা। তাঁদের পুজোয় এবারের মণ্ডপ তৈরির দায়িত্ব পাওয়া মণ্ডপশিল্পী অগ্রিম ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা নিয়ে উধাও। অভিযুক্ত উত্তর ২৪ পরগনার চণ্ডীপুরের শিল্পী বিদ্যুৎ চৌধুরী। তবে শুধু এই পুজো কমিটি থেকেই নয়, কোচবিহারের পঞ্চরঙ্গী মোড়ের গুড়িয়াহাটি ক্লাব থেকেও তিন ধাপে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গায়েব ওই শিল্পী। গুড়িয়াহাটি ক্লাব তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে। এখন হাতেগোনা কয়েকদিনের মধ্যে কীভাবে পুজোর আয়োজন করা সম্ভব হবে তা ভেবেই সুভাষপল্লি বয়েজ ক্লাবের পুজো কমিটির সদস্যদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। এদিকে, এভাবে কতগুলি পুজো কমিটিকে ওই শিল্পী প্রতারিত করেছেন তা ভেবেও গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করা ওই ক্লাবের এবারের থিম ছিল মাটির ঘরে আসবে মা। মাটির ঘরের আদল তৈরি করে গ্রামীণ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলাই তাদের পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সিতাইয়ের বিধায়ক সংগীতা রায় ও সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াও এই পুজোর পৃষ্ঠপোষক। চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তাঁকে অগ্রিম এক লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর সময় পেরোলেও কাজ এগোচ্ছিল না। মণ্ডপশিল্পী বা তাঁর কর্মীরা কেউই সিতাইয়ে আসেননি। পরে ফোন করা হলে বিদ্যুৎ সিতাইয়ে আসার দিন জানালেও এসে পৌঁছাননি। তারপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি উদ্যোক্তারা। অনেক চেষ্টা করেও কোনও খোঁজ না মেলায় পুজো কমিটির সদস্যরা বুঝতে পারেন যে, তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। কমিটির সম্পাদক রাজা সরকার বলেন, ‘চাঁদার টাকায় আমরা পুজো করি। সেই টাকা যদি কেউ আত্মসাৎ করে তাহলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভেঙে যায়। আমরা চাই না তাঁদের সেই বিশ্বাস নষ্ট হোক।’
বাধ্য হয়ে নতুন শিল্পী এনে তাড়াহুড়ো করে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, তাঁরা দর্শনার্থীদের নিরাশ হতে দেবেন না। মণ্ডপ ছোট হলেও কোনওকিছুতে খামতি রাখতে চাইছেন না কেউই। কাজ শেষ করতে ইতিমধ্যেই তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন। এমনকি মণ্ডপশিল্পীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, দ্বিতীয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়ালি পুজো উদ্বোধন করার কথা।
