উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Courtroom) রিট পিটিশন (sir voter petition) ফাইল করেছেন রাহুল গান্ধি-মল্লিকার্জুন খাড়গেরা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে রাহুল সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করার পরই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে যৌথভাবে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। আইনজীবি এস প্রসন্নর মাধ্যমে দায়ের হওয়া এই মামলায় ইসিআই-এর সম্পূর্ণ রেকর্ড খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের দায়ের করা আইনি নথিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী এবং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সমস্ত রেকর্ড, ইনেট এবং এরোনেট-এর এক্সেস লগ এবং সভার কার্যবিবরণী আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারির আর্জি রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ফর্ম-৬ যাতে ১৯৬০ সালের বিধি অনুযায়ী সঠিক রূপ বজায় রাখে, আবেদনে সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনিয়ম বা ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের দাবিও এই আবেদনে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বিরোধী শিবির। এই স্বাধীন কমিটি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে। এছাড়া বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের নাম, লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান এবং সংশোধনের সঠিক কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করার নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা। আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে চলমান এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াটিতে স্থগিতাদেশ জারিরও জোরদার দাবি জানানো হয়েছে।

