SIR Voter Listing | মালদায় ট্রাইব্যুনাল আছে, অফিসার নেই!  ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ

SIR Voter Listing | মালদায় ট্রাইব্যুনাল আছে, অফিসার নেই!  ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


মালদা: ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের (SIR Voter Listing) প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর মালদা জেলায় হাজার হাজার ভোটারের নাম কাটা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জেলা প্রশাসনিক ভবনের ট্রাইব্যুনালে (Appellate Tribunal) আবেদন জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্যান্ডেল খাটিয়ে ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো তৈরি হলেও সেখানে অভিযোগ শোনার মতো কোনও আধিকারিক নেই। বুধবার সকাল থেকে ভোটাররা ভিড় করলেও ট্রাইব্যুনাল চত্বরে দেখা মিলল কেবল হাতেগোনা কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীর।

মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার মহম্মদ জাকির হোসেন বিশ্বাস এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তিনি জানান, ২০০৪ সাল থেকে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল। সম্প্রতি তাঁদের সাত ভাই-বোনের নামে শুনানির নোটিশ আসে। পরিবারের সবাই সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁদের নাম তালিকায় উঠলেও, রহস্যজনকভাবে জাকির হোসেনের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হতাশার সুরে তিনি বলেন, “সকাল থেকে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানাতে এসেছি। এখানে প্যান্ডেল করা হয়েছে, কাউন্টার আছে, কিন্তু পুলিশ ছাড়া কোনও অফিসারকে দেখা যাচ্ছে না। নাম বাদ যাওয়ায় আমরা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছি।”

জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে ট্রাইব্যুনালের জন্য বড় প্যান্ডেল করা হলেও সেখানে হেল্পডেস্ক বা অভিযোগ জমা নেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি না থাকায় বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছে। ভোটারদের প্রশ্ন, যদি অফিসাররাই না থাকেন, তবে প্যান্ডেল করে লোক দেখানো ট্রাইব্যুনাল তৈরির মানে কী? বিশেষ করে সীমান্ত জেলা হিসেবে মালদায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের পক্ষে সওয়াল করলেও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে অস্বস্তিতে জেলা বিজেপি নেতৃত্বও। সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত তাঁদের নাম ফিরে পেতে আবেদন করতে পারেন, সেই দাবি জোরালো হচ্ছে।

কমিশন সূত্রে খবর, ট্রাইব্যুনালে জুডিশিয়াল অফিসারদের বসার কথা। কিন্তু ঠিক কবে থেকে তাঁরা এই প্যান্ডেল ঘেরা কাউন্টারগুলিতে বসবেন, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *