উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা (West Bengal SIR Ultimate Voter Record) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটার লক্ষণ নেই। বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) একটি ইঙ্গিতে ৬০ লক্ষ নিষ্পত্তিহীন নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে দেয়। যদিও বৃহস্পতিবার কমিশন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত তালিকায় সবার নামই থাকবে, তবে তালিকাটি তিনটি সম্পূর্ণ পৃথক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে।
কমিশন সূত্রের নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা তিনটি ভাগে থাকবে—‘অ্যাপ্রুভড’ (Permitted), ‘ডিলিটেড’ (Deleted) এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘নিষ্পত্তি হয়নি’ বা ‘Below Adjudication’। অর্থাৎ, বিপুল সংখ্যক যে নাম নিয়ে এখনও যাচাই প্রক্রিয়া বা আইনি নিষ্পত্তি চলছে, তাঁরাও তালিকায় থাকবেন, তবে ভিন্ন একটি ভাগে। জানা গিয়েছে, নতুন ভোটারের আবেদন (ফর্ম ৬) এর ভিত্তিতে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার নাম ‘অ্যাপ্রুভড’ তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে। এর বাইরে পরবর্তী সময়ে যেসব নামের যাচাই সম্পূর্ণ হবে, সেগুলি পৃথক ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকায় প্রকাশ করা হবে। তবে এই অতিরিক্ত তালিকা কবে বেরোবে, বা কত দফায় প্রকাশ পাবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম বৈধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কেবল তাঁরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অর্থাৎ, ‘নিষ্পত্তি হয়নি’ বিভাগে থাকা ৬০ লক্ষ নামের ভাগ্য আদতে বিচারপ্রক্রিয়ার গতির ওপরই নির্ভরশীল। আপলোড পোর্টাল ২১ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর এখন সময়সীমা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়ে গেল।
তথ্য বলছে, নজিরবিহীন এসআইআর (SIR course of) প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepency) এবং ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ (Unmapped Voters) নাম মিলিয়ে বিপুল জট তৈরি হয়েছিল। খসড়া তালিকায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ নাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ নিষ্পত্তিহীন নাম কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাই করছেন বটে, কিন্তু যে নামগুলি তাঁরা অনুমোদন করছেন, সেগুলি মূল চূড়ান্ত তালিকার জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য অতিরিক্ত তালিকার জন্যই বিবেচিত হবে। ফলে, ২০২৫ সালের ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটার থেকে ৫৮ লক্ষ বাদ যাওয়ার পর খসড়ায় থাকা ৭ কোটি ০৮ লক্ষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই নিষ্পত্তিহীন ভোটারদের নিয়ে নির্বাচনের আগে বড়সড় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটল না। বরং নতুন কাঠামোতে জট আরও ঘনীভূত হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
