প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: বাড়ি বাড়ি না গিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বসে SIR- এর ফর্ম বিলি করছিলেন বিএলও (BLO)। তা নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিএলও-র চরম হুমকির মুখে পড়লেন বিজেপির বিএলএ (BLA)। শতাধিক লোক নিয়ে গিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে বিজেপির বিএলএ-কে মারধোর করা হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ বিএলও-র বিরুদ্ধে। এমন হুমকির ঘটনা নিয়েই বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের ধুলুক গ্রামের ৩৬ নম্বর বুথ এলাকায়। অভিযুক্ত বিএলও-কে বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে বিজেপি-র বিএলএ এদিন জামালপুর থানা ও বিডিও-র দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। শুরু হয়েছে অভিযোগের তদন্ত।
জামালপুর বিধানসভার পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম ধুলুক। এই গ্রামে ৩৬ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) হয়েছেন স্থানীয় কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। একই বুথে বিজেপির তরফে বিএলএ (BLA) করা হয়েছে স্থানীয় কুন্তল মজুমদারকে। বিজেপির বিএলএ-র অভিযোগ, বুথ এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে SIR এর ফর্ম বিলি করার নির্দেশ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তা না করে বিএলও কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বসে SIR ফর্ম বিলি করছিলেন। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় নাকি তাঁকে পড়তে হয় হুমকির মুখে।
অপরদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএলও কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে এই বিষয়ে ফোন করা হলে তিনি জানান, SIR-এর ফর্ম বিলি সংক্রান্ত তাঁর কাজের একটা ভিডিও খোঁদ নির্বাচন কমিশন তাদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে। এটা অনেকে মনে নিতে পারেনি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার (Propaganda) ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এদিন সকালে SIR-এর ফর্ম নিয়ে তিনি বাড়ি বাড়ি বিলি করতে যাচ্ছিলেন। তখন গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আশেপাশের বাসিন্দারা তাঁকে দাঁড় করিয়ে SIR ফর্ম চায়।তাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বারান্দায় বসে ওখানকার কয়েকজনকে SIR-এর ফর্ম দিয়ে তিনি অন্য বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি ফর্ম দিতে চলে যান। বিএলএ-কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, পুলিশ ও প্রশাসন ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। বিডিও (জামালপুর) পার্থসারথী দে এবং ইআরও নিলিমা সামন্ত এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চান নি। জেলাশাসকের মানা রয়েছে জানিয়ে তাঁরা কার্যত মুখে কুলুপ আঁটেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক আলক মাঝি বলেন, “বাংলায় SIR লাগু করেও আখেরে যে কিছু লাভ হবে না সেটা মনে হয় বিজেপির নেতারা বুঝে গিয়েছে। তাই তাঁরা নানা অছিলায় বিএলও-দের স্বাধীন ভাবে কাজ করায় বাধা সৃষ্টি করছে।
