উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানে নেমে পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, এখনও লক্ষ লক্ষ নথি যাচাইয়ের কাজ পড়ে রয়েছে। সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, কাজের এই বিপুল বোঝা ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ না হলে তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভারেরা ভোটারদের জমা দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে মোট ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জনের নথিকে ‘অযোগ্য’ (Invalid) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তালিকায় সেই সমস্ত নাম রয়েছে যারা কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১৩টি নির্দিষ্ট নথির বাইরে অন্য কাগজ জমা দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, নির্ধারিত তালিকার বাইরে কোনো নথি গ্রহণ করা যাবে না।
ভোটার তালিকার বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়ছে:
• বাতিল নথি: ৪,৪৪,৯৭০ জন (মাইক্রো অবজার্ভারদের রিপোর্টে)।
• শুনানিতে অনুপস্থিত: প্রায় ৭ লক্ষ ভোটার এসআইআর (SIR) শুনানিতে যোগ দেননি।
• সিদ্ধান্তহীন নথি: প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে ইআরও (ERO) এবং এইআরও-রা (AERO) এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
• বকেয়া কাজ: জেলাশাসকদের টেবিলে পড়ে রয়েছে আরও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি নথি।
অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে আধিকারিকরা তালিকার বাইরের নথি জমা নিয়েছেন। কেন এবং কার নির্দেশে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের থেকে জবাবদিহি চাইতে পারে কমিশন। গোটা প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষকদেরও নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত নথি নিষ্পত্তি করার কথা। কিন্তু প্রায় ৩০ লক্ষ নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। আধিকারিকদের একাংশের মতে, এত অল্প সময়ে এই বিশাল সংখ্যক তথ্য নির্ভুলভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সময় বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে ফের আবেদন করার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়লে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেটাই দেখার।
