উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তিনি বিএলও (BLO)। এই মুহূর্তে ভীষণ ব্যস্ত এসআইআরের (SIR) কাজ নিয়ে। এরই মধ্যে ঠিক হয়েছে বিয়ে। একরাশ দায়িত্ব নিয়ে যথাসময়ে সেরে ফেলেছেন বিয়েও। বাড়িতে চলছে বৌভাতের আয়োজন (Marriage ceremony Reception)। বৌভাতে উপস্থিত থাকতে বাড়িময় আত্মীয়দের ভিড়। কিন্তু বরকে সেভাবে দেখাই যাচ্ছে না বাড়িতে। পরিবার থেকে আত্মীয় সকলেই বরকে না পেয়ে খানিক বিরক্তও বটে। অবশেষে দেখা মিলল বরের। একটি রুমে বসে কাগজপত্র ও মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। কী করছেন? এক ঝলক মুখ তুলে বললেন, ‘ভোটারদের এনামুরেশন ফর্ম অনলাইনে আপলোড করছি।’ ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ভাতশালার। বৌভাতের দিন এমনভাবেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল বিএলও মুস্তাক আহমেদকে।

বিএলও তথা প্রাথমিকের শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের আনন্দনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর অধীনে রয়েছে ৭৭৪ জন ভোটারের এনুমারেশান ফর্ম। গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য হাতে সময় খুবই কম। তাই বউভাতের অনুষ্ঠানেও কাজ ফেলে রাখতে চাইলেন না মাস্টারমশাই। তাঁর বক্তব্য, ‘কাজটা নিখুঁতভাবে করতে গিয়ে এটা করতেই হচ্ছে, উপায় নেই। আমার কাছে ফর্ম জমা ও আপলোডের কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। হাতে সময় কম, তাই বৌভাতের দিনেও আমাকে এনুমেরেশান ফর্ম আপলোড করতে হচ্ছে।’
নিজের জীবনের একটা বিশেষ দিনেও কাজের প্রতি এতটা মনোযোগ? প্রশ্ন করতেই একগাল হাসি নিয়ে বললেন, ‘আমার বাবা-মা অতিথিদের আপ্যায়ন করছেন। আমার স্ত্রী রয়েছেন। আমি মাঝেমধ্যে গিয়ে অতিথিদের আপ্য়ায়ন করছি। তার মাঝে কাজও করতে হচ্ছে। নববধূ ও বাড়ির লোকজন এর গুরুত্ব বুঝেছেন বলেই কাজটা করতে পারছি। ভবিষ্যতে যখন এসআইআর নিয়ে কথা উঠবে, তখন মানুষকে বলতে পারব যে ওই কাজের জন্য বউভাতের অনুষ্ঠানের দিনেও ঘরে বসে ডাটা এন্ট্রি করতে হয়েছে।’
