শিলিগুড়ি: শারদীয়া দুর্গোৎসবের পবিত্র তিথি মহাষ্টমী। আর এই মহামায়ার আরাধনায় মহাষ্টমীর অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা (Siliguri Ramakrishna Mission Kumari Puja)। সেই সুদীর্ঘ ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে সোমবার মহাষ্টমীর সকালে শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে অত্যন্ত সাড়ম্বরে ও আড়ম্বরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভাবধারা অনুযায়ী, এক কুমারী বালিকার মধ্যে সাক্ষাৎ দেবী দুর্গার মহাশক্তি ও মাতৃরূপকে কল্পনা করে এই পুজো করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের ইতিহাসে কুমারী পুজোর তাৎপর্য অপরিসীম। বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং দুর্গাপুজোর সময় কুমারী পুজোর সূচনা করেছিলেন। স্বামীজির সেই আদর্শ ও ঐতিহ্যকে বহন করেই প্রতিবছর শিলিগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশনে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে এই বিশেষ আরাধনার আয়োজন করা হয়।
মহাষ্টমীর সকালে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্যি এবং চন্দনের সুবাসে মুখরিত হয়ে ওঠে শিলিগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণ। আশ্রমের সন্ন্যাসী ও পুরোহিতদের পরিচালনায় এক বালিকাকে বস্ত্র, পুষ্পমাল্য ও অলঙ্কারে ভূষিত করে আসনে বসিয়ে সরাসরি দেবী রূপে আরাধনা করা হয়।
এই পুজোর মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয় না, বরং সমাজের সর্বস্তরে নারীশক্তির প্রতি পরম শ্রদ্ধা এবং প্রতিটি নারীর মধ্যে যে পরম দেবীত্ব অবস্থান করছে—সেই সার্বজনীন সত্য ও নারীসম্মানের বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হয়।
মহাষ্টমীর এই পুণ্য তিথিতে কুমারী মায়ের সাক্ষাৎ দর্শন করতে এবং পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করতে ভোর থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। ছোট শিশুর মধ্যে জগজ্জননী মা দুর্গার রূপ প্রত্যক্ষ করে ভক্তরা চরম আধ্যাত্মিক সুখানুভূতি প্রকাশ করেন। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে মহামায়ার প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নারীশক্তির আরাধনার এক অপূর্ব আবহ তৈরি হয় শিলিগুড়ির এই পবিত্র প্রাঙ্গণে।

